ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এক লাফে ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
ইরানের ওপর ক্রমাগত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টায় তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। ড্রোন হামলা এবং নিরাপত্তার অভাবে ইতিমধ্য়েই মেরস্ক (Maersk)-এর মতো বড় শিপিং সংস্থাগুলো এই রুটে তাদের পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি থমকে গিয়েছে।
ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহণ খরচে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে চরম মুদ্রাস্ফীতি ডেকে আনবে।