বিশ্বকে কোণঠাসা করার নতুন অস্ত্র! মার্কিন দেশে কারখানা না থাকলে ওষুধ আমদানিতে ১০০% শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে কোণঠাসা করার নতুন হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যে এবার সুস্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সমস্ত ব্র্যান্ডেড বা পেটেন্টযুক্ত ওষুধের উপর ১ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে শর্ত একটাই—যদি সেই সব ওষুধের নির্মাতাদের মার্কিন দেশে কোনও উৎপাদন কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান না থাকে!

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই বার্তাটি দিয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “IS BUILDING” (নির্মাণ চলছে)-কে ব্রেকিং গ্রাউন্ড অথবা নির্মাণাধীন হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে। অর্থাৎ, “যদি নির্মাণ শুরু হয়ে থাকে, তবে এই ওষুধ পণ্যগুলির উপর কোনও শুল্ক থাকবে না।” ট্রাম্পের মতে, কোম্পানিগুলিকে দেশীয় কারখানায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে বাধ্য করার মূল চাবিকাঠি হল এই শুল্ক।

ভারতীয় ফার্মার ওপর মারাত্মক প্রভাবের আশঙ্কা
ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকায় বানাও’ নীতি ভারতীয় ওষুধ শিল্পের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশাল বাজার: এসবিআই রিসার্চের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোট ওষুধ রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই মার্কিন বাজারে যায়। অনেক বৃহৎ ভারতীয় ওষুধ কোম্পানি তাদের মোট রাজস্বের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মার্কিন বাজার থেকে সংগ্রহ করে।

আয় কমার আশঙ্কা: ওই প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ভারতীয় ওষুধ রপ্তানির উপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে ২০২৬ অর্থবছরে ওষুধ কোম্পানিগুলির আয় ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

প্রতিযোগিতা ও মুনাফা: শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম ওষুধ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা হ্রাস পাবে এবং মুনাফার মার্জিনের উপর চাপ তৈরি হবে, কারণ কোম্পানিগুলি উচ্চতর খরচ ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।

গৃহস্থালি পণ্যতেও শুল্কের বোঝা
ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্যের উপরও শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প:

১ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে রান্নাঘরের ক্যাবিনেট এবং বাথরুমের ভ্যানিটির উপর ৫০ শতাংশ।

গৃহসজ্জার সামগ্রীর উপর ৩০ শতাংশ।

ভারী ট্রাকের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি কর আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমদানি করা রান্নাঘরের ক্যাবিনেট এবং সোফার উপর এই কর “জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণে” প্রয়োজন। যদিও আমদানিকৃত পণ্যের উপর নতুন করে এই শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন দেশে গৃহনির্মাণকারীদের খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।