প্রতিদিন মাত্র ৩০ টাকা। খুব সামান্য মনে হচ্ছে? এক কাপ চা আর বিস্কুটের খরচ। কিন্তু এই সামান্য টাকাটুকুই যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগ করেন, তবে মেয়াদ শেষে আপনার হাতে আসবে মোটা অংকের টাকা। মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট (RD) এখন সঞ্চয়ের সবথেকে সহজ এবং নিরাপদ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেরই মাস শেষে হাত খালি হয়ে যায়, কিন্তু সামান্য পরিকল্পনা থাকলেই আপনি অনায়াসেই ৫০,০০০ টাকার মালিক হতে পারেন।
কীভাবে কাজ করবে এই ম্যাজিক হিসাব? পোস্ট অফিসে বর্তমানে আরডি-তে বার্ষিক ৬.৭০ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়। এই সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চক্রবৃদ্ধি বা কম্পাউন্ডিং হয়। ধরুন, আপনি শুরুতে এককালীন ৫,০০০ টাকা দিয়ে একটি আরডি অ্যাকাউন্ট খুললেন। এবার ঠিক করলেন প্রতিদিন ৩০ টাকা করে জমাবেন। যদিও পোস্ট অফিসে রোজ টাকা জমা দেওয়া যায় না, তাই মাসে ৯০০ টাকা করে আপনি ওই অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারেন।
হিসাবটা বুঝে নিন:
-
শুরুতে এককালীন জমা: ৫,০০০ টাকা।
-
প্রতি মাসে সঞ্চয়: ৯০০ টাকা।
-
সুদের হার: ৬.৭০ শতাংশ।
-
টার্গেট: ৫০,০০০ টাকা।
এমনিতে প্রতি মাসে ৯০০ টাকা করে জমালে ৪৫,০০০ টাকা তুলতে প্রায় ৫০ মাস সময় লাগে। কিন্তু যেহেতু এখানে চক্রবৃদ্ধি সুদ কাজ করে, তাই আপনার জমানো টাকার ওপর প্রতি তিন মাস অন্তর সুদ যোগ হতে থাকবে। ফলে ৩ বছর ৯ মাস থেকে ৪ বছরের মধ্যেই আপনার মোট জমা এবং সুদ মিলিয়ে ব্যালেন্স ৫০,০০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, আপনার আসল জমার পাশাপাশি একটি মোটা অংকের নিশ্চিত মুনাফাও আপনার পকেটে ঢুকবে।
চাকরিজীবনের শুরুতেই বা ছাত্রছাত্রীরা হাতখরচ বাঁচিয়ে এই ধরনের সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতে বড় আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব। তাই দেরি না করে আজই আপনার কাছের পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, ছোট ছোট বিন্দু থেকেই সিন্ধু তৈরি হয়!