ক্রেডিট কার্ড মানেই ঋণের বোঝা—এই ধারণা এখন অতীত। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে ব্যবহার করলে ক্রেডিট কার্ড আপনার জীবনের অন্যতম সেরা আর্থিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। জেনে নিন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ৫টি বিশেষ সুবিধা:
১. লোন পেতে সুবিধা ও ক্রেডিট স্কোর বৃদ্ধি
আপনি যখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সময়মতো বিল মেটান, তখন আপনার সিবিল (CIBIL) বা ক্রেডিট স্কোর উন্নত হয়। ভবিষ্যতে হোম লোন বা কার লোনের মতো বড় ঋণের প্রয়োজন হলে, ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকায় ব্যাঙ্ক খুব সহজেই এবং কম সুদে আপনাকে লোন দিয়ে দেবে।
২. আপৎকালীন আর্থিক সুরক্ষা (Emergency Fund)
হঠাৎ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন বা পারিবারিক বিপর্যয় এলে ক্রেডিট কার্ড ‘লাইফ সেভার’ হিসেবে কাজ করে। পকেটে নগদ টাকা না থাকলেও এই কার্ড ব্যবহার করে তৎক্ষণাৎ প্রয়োজন মেটানো যায়, যা পরে সুবিধামতো শোধ করা সম্ভব।
৩. সুদমুক্ত কেনাকাটার সুযোগ (Interest-Free Period)
ক্রেডিট কার্ডের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এর গ্রেস পিরিয়ড। কেনাকাটা করার পর সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ দিন পর্যন্ত কোনো সুদ লাগে না। অর্থাৎ, ব্যাঙ্কের টাকা ব্যবহার করেও আপনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিনা সুদে সেই সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
৪. আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট
অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর বিল—সবক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডে নানা অফার থাকে। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটে সেল চলাকালীন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে সরাসরি ১০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট বা বড় অঙ্কের ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, যা সাধারণ ডেবিট কার্ডে মেলে না।
৫. খরচের সঠিক হিসাব ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ
মাস শেষে ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্ট দেখলেই বোঝা যায় কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে। এর ফলে আপনার খরচের একটি ডিজিটাল রেকর্ড থাকে, যা আপনাকে আজেবাজে খরচ কমিয়ে সঠিক বাজেট তৈরি করতে সাহায্য করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পেতে হলে সবসময় ‘টোটাল ডিউ’ (Total Due) বা পুরো টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দিন। শুধুমাত্র ‘মিনিমাম ডিউ’ দিলে কিন্তু চড়া সুদ গুনতে হতে পারে।