বিশুদ্ধ পেট্রোলে ফেরার কোনো প্রশ্নই নেই! সংসদে ই২০ জ্বালানি নিয়ে বড় সাফাই দিল কেন্দ্র

দেশে প্রচলিত পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটাল কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদে লিখিত জবাবে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাজারে আর কখনোই ইথানলবিহীন বিশুদ্ধ পেট্রোল (E0) বা ই১০ (E10) জ্বালানিতে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব সরকারের নেই। সরকারের মূল নীতি হলো আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া, কোনোভাবেই নিম্নমানের প্রযুক্তির দিকে পিছিয়ে না যাওয়া।
সংসদে কী জানিয়েছে সরকার?
সংসদে পেশ করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারত তার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পাঁচ বছর আগেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের (E20) লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করেছে। পরিসংখ্যান বলছে:
২০২২-২৩: গড় মিশ্রণ ছিল প্রায় ১২%
২০২৩-২০২৪: বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৪.৬%
২০২৪-২০২৫: মিশ্রণের মাত্রা পৌঁছায় প্রায় ১৯.২%
২০২৫-২০২৬ (নভেম্বর-জুন): সফলভাবে ২০% লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ২০% মিশ্রণের মাত্রা অতিক্রম করার কোনো বাড়তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহনের জন্য চালু করা E85 (৮৫% ইথানল) জ্বালানি শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট গাড়িগুলির জন্যই প্রত্যয়িত এবং তা সাধারণ পেট্রোল সরবরাহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইঞ্জিনের ক্ষতি ও মাইলেজ নিয়ে কী দাবি করা হচ্ছে?
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মহলে ই২০ পেট্রোলের কারণে ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা গাড়ি খারাপ হওয়ার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। নীতি আয়োগ, IOCL, ARAI, IIIP এবং SIAM-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির যৌথ মাঠ পর্যায়ের যাচাই ও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ই২০ জ্বালানি যানবাহনের ইঞ্জিনের কোনো অস্বাভাবিক ক্ষতি করে না। চলতি অর্থবর্ষে কোটিরও বেশি পুরনো গাড়ি সার্ভিসিং করার পরেও ইথানলের কারণে ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার কোনো অভিযোগ মেলেনি। বর্তমানে দেশের ২০ কোটিরও বেশি দুই চাকা এবং ৩ কোটির বেশি চার চাকার গাড়ি নির্বিঘ্নে এই জ্বালানিতে চলছে।
মাইলেজের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, চালকের অভ্যাস বা রাস্তার অবস্থার ওপর জ্বালানি দক্ষতা নির্ভর করলেও পুরনো ডিজাইনের গাড়িগুলিতে E20 ব্যবহারে ৩ থেকে ৫ শতাংশ মাইলেজ সামান্য কমতে পারে। তবে এই জ্বালানির অক্টেন রেটিং বেশি থাকায় গাড়ির পিকআপ (ত্বরণ) ও সামগ্রিক ইঞ্জিন পারফরম্যান্স অনেক উন্নত হয়।
দেশের অর্থনীতি ও কৃষকদের লাভ
ই২০ জ্বালানি নীতি চালুর ফলে দেশ একাধিক ক্ষেত্রে বিরাট সুফল পেয়েছে:
বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
আমদানি হ্রাস: অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৩১৬ লক্ষ মেট্রিক টন কমেছে।
পরিবেশ রক্ষা: প্রায় ৯৫২ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
কৃষক কল্যাণ: দেশের কৃষকরা এর মাধ্যমে ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লাভ করেছেন।
ভোক্তা বা গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি (OMC) ই২০ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, অভিযোগ বই ও নির্দিষ্ট পোর্টালে দ্রুত নিষ্পত্তির শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।