রাজনীতির ময়দানে ফের স্বমহিমায় শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার শ্রীরামপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী— সকলকেই কড়া ভাষায় বিঁধলেন তিনি। কল্যাণের সাফ দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আর মাত্র তিন মাসের। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও পরামর্শ দিলেন, বিরোধী দল কীভাবে পরিচালনা করতে হয় তা যেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শিখে নেন।
শুভেন্দুকে আক্রমণ ও ভবিষ্যদ্বাণী: এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, “শুভেন্দু কী বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। ওর হাতে আর মাত্র তিন মাস সময় আছে। এরপর আর ও বিধায়ক হতে পারবে না। ও আসলে একজন অশিক্ষিত ও অপদার্থ মানুষ। নিজের শোচনীয় অবস্থার কথা ও নিজেও জানে।”
মমতার পাঠশালায় মোদি: বঙ্গ বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিঁধে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধী দল কীভাবে করতে হয়, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ওদের শিখে নেওয়া উচিত। দরকার পড়লে মোদিজিও একদিন সময় চেয়ে দিদির কাছ থেকে ট্রেনিং নিতে পারেন। দিল্লিতে গিয়ে দিদি দেখিয়ে দিয়ে এসেছেন বিরোধী রাজনীতি কাকে বলে।”
সুপ্রিম কোর্ট ও চার্জশিট বিতর্ক: সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালকে পূর্ণ সমর্থন জানান কল্যাণ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নাগরিক হিসেবে জনস্বার্থে মামলা করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর কথা শুনে সময় বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।” অন্যদিকে, বিজেপির ‘চার্জশিট’ বিলি নিয়ে তিনি ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কল্যাণের অভিযোগ, বিজেপির হ্যান্ডবিলে প্রকাশক বা প্রিন্টিং প্রেসের নাম নেই, যা আইনত অপরাধ। এই নিয়ে প্রতিটি থানায় অভিযোগ জানানোর জন্য তৃণমূল কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।