পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগের ‘বৈধতা’ নিয়ে আজ বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে তীব্র আইনি প্রশ্ন উঠল। যদিও আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি, তবে মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত পিছিয়ে আদালত রাজ্য সরকার ও বিধানসভার স্পিকারের কাছে হলফনামা তলব করেছে।
আদালতে কেন প্রশ্ন উঠল? তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিধানসভার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ও গণতান্ত্রিক প্রথাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবীর সওয়াল, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা বিরোধী শিবিরের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি পৃথক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা আইনত সমর্থনযোগ্য নয়।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি জানতে চান, “যাকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে, তিনি তো সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য নন—কারণ দলটি তাঁকে বহিষ্কার করেছে। তাহলে তিনি কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন?” বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণ এখন রাজ্য রাজনীতি ও আইন মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মামলাকারীর প্রধান যুক্তি:
স্বাক্ষর বিতর্ক: আদালতের সামনে দাবি করা হয়, বিরোধী বিধায়কদের যে প্রস্তাব স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল, পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা সেই প্রস্তাবের স্বাক্ষর ‘জাল’ বলে অভিযোগ করেন। কিন্তু সেই বিতর্কিত অভিযোগের ভিত্তিতেই কীভাবে স্পিকার তাঁকে স্বীকৃতি দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মামলাকারী পক্ষ।
দলের কর্তৃত্ব: আইনজীবীর মতে, বিধানসভার ভেতর কোনো গোষ্ঠী বা গ্রুপ নিজে থেকে বিরোধী দলনেতার দাবি করতে পারে না। মূল রাজনৈতিক দল যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, তখন সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে গোষ্ঠী-বিশেষের পছন্দকে মান্যতা দেওয়া কতটা সাংবিধানিক, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য হলফনামা জমার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন। আগামী ১৬ জুন রাজ্য সরকার ও স্পিকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
বিরোধী দলনেতার কক্ষ বরাদ্দ থেকে শুরু করে বর্তমান আইনি লড়াই—পুরো প্রক্রিয়ায় এখন বিধানসভার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, তা ১৬ জুনের শুনানিতে আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





