তীব্র দাবদাহে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ মানেই পরম তৃপ্তি। কিন্তু সেই পরিচিত লাল টকটকে তরমুজ নয়, এবার ফলের বাজারে রাজত্ব করতে শুরু করেছে এক ‘হলুদ জাদু’! বাইরে থেকে দেখতে সবুজ হলেও কাটলে ভেতরটা ঠিক যেন সোনার মতো উজ্জ্বল। নাম তার ‘ময়ূরী’। স্বাদে মধুর মতো মিষ্টি আর গুনাগুণে সাধারণ তরমুজের চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে এই বিশেষ প্রজাতির ফলটি এখন ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
কেন এই তরমুজকে বলা হচ্ছে ‘হলুদ জাদু’? সাধারণত আমরা লাল তরমুজ দেখেই অভ্যস্ত। কিন্তু কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, এই ময়ূরী তরমুজ কেবল দেখতেই সুন্দর নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্য মহৌষধ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ‘ক্যারোটিনয়েডস’ এবং ‘বিটা-ক্যারোটিন’, যা চোখের জ্যোতি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এর ‘ব্রিক্স লেভেল’ বা মিষ্টতার পরিমাণ সাধারণ তরমুজের চেয়ে অনেক বেশি।
গরমে শরীরের সুরক্ষা কবচ: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ময়ূরী তরমুজের জুড়ি মেলা ভার।
জলীয় উপাদান: এতে ৯০ শতাংশের বেশি জল থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
শক্তিদায়ক: ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই ফলটি মুহূর্তের মধ্যে ক্লান্তি দূর করে শরীরে এনার্জি জোগায়।
লু থেকে রক্ষা: প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বা লু-এর হাত থেকে বাঁচতে এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাষিদের জন্য ‘সোনার খনি’: কেবল স্বাদ বা স্বাস্থ্য নয়, আয়ের দিক থেকেও ময়ূরী তরমুজ কৃষকদের কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ। যেখানে সাধারণ হাইব্রিড তরমুজ ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের হয়, সেখানে একটি ময়ূরী তরমুজের ওজন ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। গঙ্গার তীরের বালুময় মাটিতে এর ফলন অত্যন্ত ভালো হয়। বর্তমানে বাজারে এটি প্রতি কেজি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ তরমুজের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক।
বাজারের হালহকিকত: উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে শুরু করে বড় বড় রিলায়েন্স স্মার্ট বাজারে এখন এই হলুদ তরমুজ দেদার বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন এই বিশেষ ফলের স্বাদ নিতে। সাধারণ লাল তরমুজের রেকর্ড ভেঙে এখন ফলের বাজারের হিরো এই ‘ময়ূরী’।
উপসংহার: আপনি যদি নতুন স্বাদের খোঁজে থাকেন কিংবা কৃষিতে বড় লাভের মুখ দেখতে চান, তবে ময়ূরী তরমুজ আপনার জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে। গরমে প্রশান্তি আর পকেটে বাড়তি টাকা—দুই নিশ্চিত করবে এই সোনার মতো উজ্জ্বল হলুদ তরমুজ।





