বিরাট রেওয়াজ! ৩৫০ বছরের ঐতিহ্য, মহাষ্টমীর দুপুরে কামান ফাটিয়ে সন্ধিপুজোর শুরু, দেখতে উপচে পড়ল ভিড়!

দেখতে দেখতে মহাষ্টমী পেরিয়ে যখন নবমী তিথির সন্ধিক্ষণ ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক শতাব্দী প্রাচীন রীতি মেনে শুরু হলো সন্ধিপুজো। আর তা কোনো সাধারণ সূচনার মাধ্যমে নয়, বরং কামানের গর্জন-এর মাধ্যমে! বীরভূমের ছাতিনাকান্দি গোপীবাবুর বাড়িতে প্রায় ৩৫০ বছর ধরে এই ঐতিহ্য চলে আসছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নির্ধারিত সময়ে মহাষ্টমীর পুজো শেষের পর, নির্দিষ্ট প্রথা মেনে দুটি কামান ফাটিয়ে সন্ধিপুজোর সূচনা করা হয়। এই বিরল দৃশ্য দেখতে গোপীবাবুর বাড়ির প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী ভিড় জমিয়েছিলেন, এবং তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

কামান-ধ্বনিতে শুরু হতো আশেপাশের গ্রামের পুজো
কথিত আছে, একসময় এই গোপী বাবুর বাড়ির কামানের শব্দ শুনেই আশেপাশের গ্রামের দুর্গাপূজা শুরু হতো। সব মিলিয়ে মহাসমারোহে ছাতিনাকান্দি গোপী বাবুর বাড়ির দুর্গাপূজার সন্ধিপুজোর দিন এই কামান ফাটানো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো। পরম্পরা ও নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঠিক দুপুর ১টা ২১মিনিটে দুটি কামান ফাটিয়ে এই সন্ধি পুজোর সুচনা করা হয়।

সন্ধিপুজোর তাৎপর্য ও বিশেষ নৈবেদ্য
সন্ধিপুজোর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। অষ্টমী শেষ হয়ে যখন নবমী তিথি শুরু হয়, সেই সন্ধ্যা বা সন্ধিক্ষণেই এই পুজো করা হয়। এই সময়েই মা দুর্গা চন্ড ও মুন্ড নামে দুই ভয়ঙ্কর অসুরকে বধ করেছিলেন।

সন্ধিপুজোর আয়োজনে তাই কোনো ত্রুটি রাখা হয় না। এই পুজোয় একটি বিশেষ নৈবেদ্য দেওয়া হয়:

১০৮ পদ্ম

১০৮ টি ঘি-এর প্রদীপ

১০৮ টি মাটির প্রদীপ

গোটা ফল, জবা ফুল, সাদা চাল, শাড়ি, গহনা এবং সাজ।

মা দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপে অসুর নিধনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকা এই সন্ধিপুজো, গোপীবাবুর বাড়িতে কামানের গর্জনের মাধ্যমে এক অনন্য মাত্রা পেল।