কাঠমান্ডু, নেপাল: দীপাবলির সমতুল্য নেপালের প্রধান উৎসব তিহারের (Tihar) দ্বিতীয় দিনটি আজ গোটা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘কুকুর তিহার’ (Kukur Tihar) বা কুকুরের উৎসব হিসেবে। এই দিনে কুকুরদের ভিআইপি (VIP) সম্মান দেওয়া হয় এবং তাদের পূজা করা হয়।
হিন্দুধর্মে কুকুরকে মৃত্যুদেবতা যমের (Yama) বার্তাবাহক এবং অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই বিশ্বাস অনুসারে, এদিন কুকুরদের গলায় ফুলের মালা পরানো হয়, নানা সুস্বাদু খাবার দেওয়া হয় এবং সিঁদুর (Vermilion Powder) ও ফুল দিয়ে পূজা করা হয়।
পুলিশের সেরা ‘জওয়ানদের’ বিশেষ সম্মান:
নেপাল পুলিশের ক্যানাইন ডিভিশনে (Canine Division) কর্মরত সারমেয়দের এই দিন বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। প্যারেড করে তাদের বিশেষ দক্ষতা দেখানো হয়, যেখানে তারা অপরাধের সূত্র ও প্রমাণ খুঁজে বের করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। তাদের গলায় মালা, খাবার ও সিঁদুর দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বিশেষ করে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধার, অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং মাদক পাচারকারীদের খুঁজে বের করতে এই সারমেয় বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্যানাইন অফিস সেরা পারফর্ম করা কুকুরদের মেডেল দিয়ে সম্মান জানায়। ট্রেনিং স্কুলে থাকা অসংখ্য কুকুরের মধ্যে মামলার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য একটি কুকুরকে ‘ডগ অফ দ্য ইয়ার’ (Dog of the Year) উপাধি দেওয়া হয়।
ক্যানাইন ডিভিশনের অফিসার মহেশ ভুল কুকুরদের নিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন: “পলাতক অপরাধীকে ধরতে সাহায্য করে, সেই তো কুকুর। মাদক ব্যবহারকারীদের গন্ধ শুঁকে বের করে, সেই তো কুকুর। বাড়ি ও অফিস পাহারা দেয়, লুঠ বা চুরি করতে আসা লোকেদের তাড়া করে।”
ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাস:
হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ ঋগ্বেদে কুকুরদের জননী সমরার কথা উল্লেখ আছে, যিনি স্বর্গরাজ ইন্দ্রকে চুরি যাওয়া গবাদি পশু উদ্ধারে সাহায্য করেছিলেন। এছাড়া পৌরাণিক মহাকাব্য মহাভারতেও কুকুরের প্রতি আনুগত্যের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্বাস করা হয়, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির স্বর্গে যাওয়ার পথে তাঁর এক বিশ্বস্ত কুকুরকে সঙ্গী করেছিলেন। সেই কুকুরটিকে ছাড়া যুধিষ্ঠির স্বর্গে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। এই কাহিনী আনুগত্য ও ধর্মের পথে চলার ধারণাকে তুলে ধরে।
প্রাচীনকাল থেকেই কুকুরকে আনুগত্য, সাহসিকতা এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে সম্মান জানানো হয়। নেপালে তাই পোষা কুকুর এবং পথ কুকুর—উভয়কেই যম পঞ্চক বা তিহারের দ্বিতীয় দিনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পূজা করা হয়।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশেরও কি নেপালের কাছ থেকে এই শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?