বিয়ে হতেই বদলে গেল টলিউড অভিনেত্রীর দুর্গোৎসব! কামারপুকুরের আদি বাড়িতে দেবী প্রতিমাকেও ভোগে দেওয়া হয় মাছ

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা পুষ্টিবিদ ও উদ্যোক্তা ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে দুর্গোৎসব মানেই আত্মিক টান এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, পুজোর দিনগুলিতে তিনি পুরোদমে সময় দেন পরিবারকে। অভিনেত্রী তথা টলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা তরুণ কুমারের নাতবৌ ত্বরিতার কামারপুকুরের আদি বাড়িতে আজও চরম নিষ্ঠা ও সাড়ম্বরে দুর্গাপুজো পালিত হয়। সেই পুজোর বিশেষ ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁদের বংশের এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সপ্তমীর দিন গ্রামের মানুষদের মহাসমারোহে খাওয়ানো এবং দেবী দুর্গাকে ভোগে মাছ নিবেদন করা। তবে পরিবারের নিয়ম মেনে সবাই নিরামিষ আহারই গ্রহণ করেন। ওই বাড়িতে কড়া নিয়ম থাকায় পুজোর কদিন বাড়িতে কোনো রকম মুরগি বা মাংস ঢোকার প্রবেশাধিকার থাকে না। লুচি ও খিচুড়ির ভোগেই মেতে থাকে গোটা পরিবার।
ত্বরিতা স্মৃতিচারণা করে জানান, অষ্টমীর সন্ধিপুজোর সময় পুকুর থেকে মাছ তোলা, কলাবউ স্নান এবং অঞ্জলি দেওয়ার ধুম পড়ে যেত। ছোটবেলায় সমস্ত জাগতিক দুশ্চিন্তা ও পড়াশোনার চাপ বাড়িতে ফেলে রেখে গ্রামের বাড়িতে আনন্দ করতে ছুটে যেতেন তিনি। আজও কামারপুকুরের পুজো মানে তাঁর কাছে সমস্ত টেনশন কলকাতায় ফেলে রেখে নিখাদ আনন্দে মেতে ওঠা। জমিদার বাড়ির আদলে তৈরি সেই আদি বাড়িতে এখনও নিয়মিত নহবত বসে, কাছারি বাড়িতে ঢাকিরা এসে ওঠেন এবং আটচালায় বসে গান-বাজনা ও নাচের উৎসবে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম।
এদিকে কিংবদন্তি অভিনেতা তরুণ কুমারের নাতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ের পর ত্বরিতার পুজোয় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি—দুটি পরিবারকেই সমানভাবে সময় দেন। শ্বশুরবাড়ির পাড়ার ধুমধামপূর্ণ বারোয়ারি পুজোতেও স্বামী সৌরভের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি, যা এখন তাঁর কাছে নিজের বাড়ির পুজোরই সমার্থক হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজোর গুরুদায়িত্বও এখন তাঁর কাঁধেই বর্তেছে।
তবে বর্তমান ও অতীতের পুজোর তুলনা টানতে গিয়ে ত্বরিতা কিছুটা নস্টালজিক হয়ে পড়েন। তাঁর আক্ষেপ, এখন আর পুজোর সেই বিশেষ কেনাকাটার আনন্দটা পাওয়া যায় না। সারাবছরই শপিং চলতে থাকায় পুজোর আলাদা কোনো আকর্ষণ বা ছোটবেলার সেই হাত ধরে কেনাকাটা করার উন্মাদনা আজ ফিকে হয়ে গেছে। তখনকার দিনে নতুন জামাকাপড়ের সঙ্গে রবার বা পেন্সিলের মতো ছোটখাটো উপহার পাওয়ার যে আনন্দ ছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে একেবারেই দেখতে পান না তিনি। তাঁর মতে, আজকের প্রজন্ম বড্ড বেশি যান্ত্রিক ও মেকানিক্যাল হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খোঁজার সেই মনন আজ কোথাও যেন হারিয়ে গেছে।
সবশেষে সমাজের এক নির্মম সত্যের মুখোশ খুলে ত্বরিতা বলেন, দেবী দুর্গার আরাধনা মানে কেবল অসুর বধ নয়; বরং আমাদের ঘরের অন্দরে যে সমস্ত জন্মদাত্রী মা ও মহিলারা প্রতিনিয়ত নিজেদের তিল তিল করে ক্ষয় করে পরিবারকে আগলে রাখেন, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও শ্রদ্ধাটুকু দিলেই আসল পুজো সার্থক হয়। ঘরের সেই দুর্গাদের অবহেলা করে কেবল প্যান্ডেলে ঘুরে প্রতিমা পুজো করলে দেবীর প্রকৃত আশীর্বাদ পাওয়া সম্ভব নয়।