‘আপনি জঙ্গি, অবিলম্বে ফিরে যান!’ নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে পদত্যাগী ইউনূসকে ঘিরে তুলকালাম, ধুন্ধুমার কান্ড

নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা তথা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পদত্যাগের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। কিন্তু মার্কিন মুলুকে পা রাখতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হলো তাঁকে। বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করা, ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা এবং শত শত নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ইউনূসকে দেখে প্রবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অত্যন্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এক বিক্ষোভকারীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আপনি একজন জঙ্গি! বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছেন। আপনি এখানে কেন এসেছেন?” বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাজার হাজার পুলিশ সদস্য হত্যা, দুই লাখের বেশি মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচারের জন্য ইউনূস ও তাঁর প্রশাসনকেই সরাসরি দায়ী করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত তাঁকে ও তাঁর সফরসঙ্গী লামিয়া মোর্শেদকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে ড. ইউনূসের মেয়াদকালের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, মণ্ডপে হামলা, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউনূসের জারি করা অধ্যাদেশটি আগুনে ঘি ঢালে। উক্ত অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাধারণ ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া ও পুলিশি তদন্ত নিষিদ্ধ করে পুরো বিষয়টিকে মানবাধিকার কমিশনের অধীনে স্থানান্তরিত করা হয়, যাকে অপরাধীদের আড়াল করার প্রচেষ্টা বলে মনে করেন সমালোচকরা।
শুধু তাই নয়, ইউনূসের মেয়াদকালে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেরও অভূতপূর্ব অবনতি ঘটে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো নিয়ে চীন সফরকালে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্য এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় উদাসীনতা নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্কে চরম ফাটল ধরায়। এছাড়া তাঁর ও গ্রামীণ গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের দাবি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে জলঘোলা করছে। যদিও এই ঘটনায় ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির তরফে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য মেলেনি, তবে নিউ ইয়র্কের এই বিক্ষোভ প্রমাণ করল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তাঁর প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ কতটা তীব্র রূপ নিয়েছে।