পাটনা থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথেই বিহারের বেগুসরাইতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিহার পুলিশের তিনজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং একজন গাড়িচালক। শুক্রবার সকালে এই খবর এলাকায় পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে নিহতদের পরিবারে। অকাল এই মৃত্যুতে স্তব্ধ পুলিশ প্রশাসনও।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— আরার থানার অফিসার জ্ঞানেন্দ্র অমরেন্দ্র, রতওয়ারা থানার অফিসার সজন কুমার পাসওয়ান এবং বেল্লারি থানার অফিসার নীরজ কুমার। তাঁদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন চালক জ্যোতিষ কুমারও। জানা গিয়েছে, তাঁরা চারজন একই গাড়িতে করে পাটনা থেকে মাধেপুরা ফিরছিলেন। পথে বেগুসরাইয়ের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
প্রতিটি পরিবারের গল্পই এখন যেন এক গভীর ট্র্যাজেডির আখ্যান। ২০০৯ ব্যাচের সাব-ইন্সপেক্টর জ্ঞানেন্দ্র অমরেন্দ্র আরার থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও ১৭ বছর বয়সী ছেলে তাঁর সঙ্গে ছুটি কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে আরারে এসেছিলেন। কিন্তু প্রশিক্ষণের জন্য বাবার পাটনা যাওয়ার সিদ্ধান্তই যে শেষ যাত্রা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা। আজ বাবা হারানো ছেলের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ।
এদিকে, রতওয়ারা থানার প্রধান সজন কুমার পাসওয়ানের পরিবারে এখন অন্ধকার। ২০১৮ ব্যাচের এই অফিসারের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। বাবা-মা ছেলের বউ ঘরে আনার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিয়ের সানাই বাজার আগেই নিভে গেল তাঁদের ঘরের প্রদীপ। ছেলের মৃত্যুর খবরে পাথর হয়ে গেছেন বৃদ্ধ বাবা-মা।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা নীরজ কুমারের। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি বেল্লারি থানায় নতুন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। গয়া জেলার বাসিন্দা নীরজের পরিবারে রয়েছে তাঁর স্ত্রী ও এক বছর বয়সী শিশুপুত্র। নতুন পোস্টিংয়ে কর্মজীবনের উন্নতির স্বপ্ন দেখেছিল পরিবারটি, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা নিমেষেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল। বড় হয়ে শিশুটি তার বাবাকে শুধুমাত্র ছবির মাধ্যমেই চেনার সুযোগ পাবে।
চালক জ্যোতিষ কুমারের জীবনও থমকে গেছে এই দুর্ঘটনায়। কর্মকর্তাদের পাটনা আনা-নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তিনি যে নিজের পরিবারের কাছে আর ফিরতে পারবেন না, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না পরিজনেরা। ১০ই জুন সকালে অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই তাঁরা চারজন মাধেপুরা থেকে পাটনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। দুদিনের প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার পথে বেগুসরাইয়ের অদূরেই মৃত্যুর অমোঘ হাতছানি তাঁদের জীবন কেড়ে নিল। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।





