বিমানে যাতায়াত কি এবার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে চলেছে? সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়ার ওপর থেকে সমস্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলি এখন থেকে বাজারের চাহিদা এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনভাবে টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনেই বিমানের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠতে পারে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিগো-সহ একাধিক বিমান সংস্থার উড়ান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় আমজনতাকে স্বস্তি দিতে ভাড়ার ওপর একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ‘সিলিং’ আরোপ করেছিল অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক। নিয়ম অনুযায়ী, একমুখী ইকোনমি ক্লাসের টিকিট ১৮,০০০ টাকার বেশি হওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু সোমবার থেকে সেই রক্ষাকবচ আর থাকছে না। এখন থেকে আকাশপথে যাতায়াতের খরচ কতটা বাড়বে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে বিমান সংস্থাগুলির মর্জির ওপর।
অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক জানিয়েছে, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে মন্ত্রক সতর্ক করে দিয়েছে যে, জরুরি পরিস্থিতিতে বা অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার পুনরায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের মরসুম বা পর্যটনের সময়ে যখন চাহিদার তুঙ্গে থাকে, তখন টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যারা শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটেন, তাঁদের পকেটে এবার বড়সড় টান পড়তে চলেছে। মধ্যবিত্তের পকেটে এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।