দীর্ঘ বিমান যাত্রা মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিটে বসে ঘাড়-পিঠ ব্যথা। কিন্তু এবার সেই দিন শেষ হতে চলেছে। বিমানে ঘুমোনোর জন্য আর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিজনেস ক্লাসের টিকিট কাটতে হবে না। সাধারণ যাত্রীদের জন্য এবার ‘বাঙ্ক বেড’ বা দোতলা বিছানার সুবিধা নিয়ে এল এয়ার নিউজিল্যান্ড। তাদের এই অভিনব স্লিপিং পডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্কাইনেস্ট’।
বিমানে ট্রেনের ছোঁয়া! নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে এয়ার নিউজিল্যান্ড এই বিশেষ মডিউলার বেড বা স্লিপিং পডের পর্দা উন্মোচন করেছে। অনেকটা ট্রেনের স্লিপার কামরার আদলে তৈরি এই বাঙ্ক বেডগুলো বিমানে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। কী কী থাকছে এই সুবিধায়?
ব্যক্তিগত আরাম: প্রতিটি বেডে থাকছে আরামদায়ক বালিশ, কম্বল এবং রিডিং লাইট।
চার্জিং পয়েন্ট: মোবাইল বা গ্যাজেট চার্জ দেওয়ার জন্য থাকছে পাওয়ার পোর্ট।
স্মার্ট ডিজাইন: এই বেডগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী ভাঁজ করে রাখা যাবে, যাতে কেবিনে জায়গার অভাব না হয়।
পকেটেই থাকছে লাগাম: সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এর খরচ। এয়ারলাইনস সূত্রের খবর, বিজনেস ক্লাসের ফ্ল্যাটবেডের তুলনায় এর ভাড়া হবে প্রায় অর্ধেক। ১৭-১৮ ঘণ্টার আল্ট্রা লং হোল রুটে (যেমন: নিউ ইয়র্ক থেকে সিডনি বা সিঙ্গাপুর) যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (২-৩ ঘণ্টা) আলাদা চার্জ দিয়ে এই বেড বুক করতে পারবেন। এমনকি মাইলস বা পয়েন্ট ব্যবহার করেও এই সুবিধা পাওয়ার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
সুরক্ষায় আপস নয়: সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে জানানো হয়েছে যে, টেকঅফ এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় এই বেড ব্যবহার করা যাবে না। কেবল মাঝ আকাশে বিমান ওড়ার সময় (Cruising) এটি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি বেডে থাকবে সেফটি বেল্ট ও এয়ারব্যাগ।
কারা বেশি উপকৃত হবেন? বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রী এবং ছোট বাচ্চা নিয়ে ভ্রমণকারী বাবা-মায়েদের জন্য এটি বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। দীর্ঘ যাত্রায় শরীরকে একটু জিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিলে ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটাই কমে যাবে।
আকাশপথে আরাম এখন আর শুধু ধনীদের একচেটিয়া নয়, মধ্যবিত্তের নাগালেও চলে আসছে ‘স্কাইনেস্ট’। খুব শীঘ্রই দীর্ঘ রুটের বিমানে দেখা মিলবে এই চমৎকার ব্যবস্থার।





