বিভূতিভূষণের স্মৃতি জড়ানো ইছামতীর ধারে, আজও এই বাড়িতে পূজিত হয় ‘পথের পাঁচালী’র দুর্গা!

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের এক করুণ ও ভালোবাসার অধ্যায় জড়িয়ে আছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পানিতর গ্রামের সঙ্গে। তার অমর সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘ইছামতী’-এর জন্ম হয়েছিল এখানেই, তার প্রথম স্ত্রী গৌরীদেবীর স্মৃতিকে আগলে। আর সেই গ্রামেরই ‘ধুনির ঘরের’ দুর্গাপূজা আজও বয়ে চলেছে সেইসব ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক স্মৃতি।

বিভূতিভূষণের প্রেমকাহিনি ও পানিতর
শৈশব থেকেই বিভূতিভূষণ বাবার হাত ধরে পানিতর গ্রামে যাতায়াত করতেন। এখানেই মোক্তার কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে গৌরীদেবীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে। পরে তিনি গৌরীদেবীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র এক বছর পরই কলেরায় আক্রান্ত হয়ে গৌরীদেবী অকালে মারা যান। স্ত্রীর শোকে ভেঙে পড়ে বিভূতিভূষণ দীর্ঘদিন পানিতর গ্রামে কাটিয়েছিলেন। এই সময়েই তিনি তার জীবনের অন্যতম সেরা সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘ইছামতী’ রচনা করেন।

ধুনির ঘরের দুর্গাপূজা
পানিতরের পাল বাড়িতে আজও সেই পুরনো দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘ধুনির ঘরের দুর্গা’ নামে পরিচিত। যদিও জমিদারবাড়ির সেই জৌলুস এখন আর নেই, তবুও পুজোর ঐতিহ্য ও আভিজাত্য আজও অটুট। একসময় এই পুজো দুই বাংলার মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ ছিল। আজও দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি ওপার বাংলার মানুষরাও এই বাড়িতে ভিড় করেন।

বিশেষ করে, অষ্টমী ও নবমীর মহাভোজ, যা স্থানীয়রা ‘ভজরাম’ নামে চেনেন, তাতে গ্রামের প্রতিটি মানুষ একত্রিত হয়। এই কয়েকটি দিনে পানিতর গ্রাম যেন ফিরে পায় তার অতীত ঐশ্বর্য। বিভূতিভূষণের স্পর্শে ধন্য এই পূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ইতিহাস, সাহিত্য এবং একটি করুণ প্রেমকাহিনির জীবন্ত দলিল।