কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আবারও বড়সড় আইনি গেরোয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ (MP-MLA) আদালত আগামী ১৯ জানুয়ারি রাহুল গান্ধীকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার এই আদেশ জারি করেন আদালতের বিশেষ বিচারক।
কেন এই তলব? পুরো ঘটনাটি ২০১৮ সালের। কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে লক্ষ্য করে রাহুল গান্ধী একটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই বছরের অক্টোবর মাসেই উত্তরপ্রদেশের হনুমানগঞ্জের বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র রাহুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। সেই ৮ বছরের পুরনো মামলাতেই এখন আইনি চাপ বাড়ছে রাহুলের ওপর।
আদালতের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি: মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি চলে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে। বাদীর পক্ষের আইনজীবী সন্তোষ কুমার পান্ডে জানান, এই মামলার অন্যতম সাক্ষী রামচন্দ্র দুবের জেরা পর্ব শেষ হয়েছে। রাহুল গান্ধীর আইনজীবী কাশী প্রসাদ শুক্লা দীর্ঘ জেরা শেষে সাক্ষ্যের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এরপরই আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ১৯ জানুয়ারি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।
ইতিহাস ও আইনি লড়াই:
-
২০২৩, ডিসেম্বর: আদালতে হাজির না হওয়ায় রাহুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
-
২০২৪, ২০ ফেব্রুয়ারি: রাহুল গান্ধী আত্মসমর্পণ করেন এবং ২৫ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পান।
-
২০২৪, ২৬ জুলাই: রাহুল গান্ধী নিজের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিচারপ্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। এখন দেখার, ১৯ জানুয়ারি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রাহুল গান্ধী কী যুক্তি পেশ করেন।