রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের তালিকা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ভোটের ফলাফলের পর প্রশাসনিক পরাজয়ের পাশাপাশি এবার তৃণমূলকে সম্মুখীন হতে হলো এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির। ইএম বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটন এলাকায় যে বহুতলটিকে ভাড়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছিল, সেই ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বাড়ির মালিক মন্টু সাহা। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
২০২২ সালে যখন তপসিয়াতে অবস্থিত পুরনো তৃণমূল ভবনের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল, তখন দল পরিচালনার সুবিধার জন্য এই ভবনটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এটি কেবল একটি কার্যালয় ছিল না, বরং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এখানে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সুসজ্জিত আলাদা ঘর ছিল। এছাড়া নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক এবং দলীয় রণকৌশল তৈরির জন্য শীর্ষ সারির নেতারা এখানে আসতেন। মূলত দলের সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং রাজ্যের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এই ভবন থেকেই দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন।
কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়ির মালিক মন্টু সাহা? তিনি বিখ্যাত ডেকরেটার্স সংস্থা ‘মডার্ন ডেকরেটার্স’-এর কর্ণধার হিসেবে পরিচিত। মন্টু বাবু সাফ জানিয়েছেন, বাড়ির সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ৪ জুন ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই ওই কার্যালয়ের বাইরে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “বাড়িটার ক্ষয়ক্ষতি হলে তো আমারই ক্ষতি। তাই আমি বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছি। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিবাদ নেই। এমনকি তৃণমূল নেতৃত্ব এখনো পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ যাবতীয় পাওনা যথাযথভাবে মিটিয়ে দিয়েছে। শুরুতে দুই বছরের চুক্তিতে এই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হলেও, পরবর্তীতে তা আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তবে মালিকের কড়া বার্তার পর, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই কার্যালয়টি ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবনের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং রাজ্যে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন। নির্বাচনের পর এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য কেবল কার্যালয় হারানোর শোক নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াইয়ে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই মাসের এই সময়সীমার মধ্যে দল কোথায় তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর স্থানান্তর করবে, তা নিয়ে এখন দলের অন্দরে চলছে চূড়ান্ত জল্পনা। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে তৃণমূল তাদের নতুন ঠিকানায় কতটা গুছিয়ে নিতে পারে।





