বিগত কয়েকদিন ধরে ইন্ডিগো বিমান যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ চলছে দেশজুড়ে। বৃহস্পতি, শুক্রবারের পর শনিবারও বিভিন্ন এয়ারপোর্টে শত শত জরুরি যাত্রী বিমান ধরতে না পেরে অপেক্ষা করছেন। এই নজিরবিহীন বিমান বিভ্রাটের জন্য মূলত দায়ী করা হচ্ছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর নয়া এবং কড়া নির্দেশিকাকে।
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, দেশের অভ্যন্তরীণ উড়ান পরিষেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্থা ইন্ডিগোর এই সঙ্কটের প্রধান কারণ হল DGCA-এর ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ (FDTL) বিধি। পাইলট ও বিমানকর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, যা সম্প্রতি কার্যকর করার নির্দেশ দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। জুন ও নভেম্বর মাসে দুই দফায় এটি কার্যকর করা শুরু হয়।
DGCA-এর মূল নির্দেশিকাগুলি:
-
সাপ্তাহিক বিশ্রাম বৃদ্ধি: পাইলট ও বিমানকর্মীদের বাধ্যতামূলক সাপ্তাহিক বিশ্রাম ৩৬ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা করা হয়েছে।
-
রাতের ফ্লাইট হ্রাস: একজন পাইলট প্রতি সপ্তাহে রাতে মাত্র ২টি বিমান অবতরণ করাতে পারবেন (আগে ৬টি ছিল)।
-
নাইট ডিউটি: পাইলট ও বিমানকর্মীদের নাইট ডিউটি সপ্তাহে পরপর দু’দিন একবারই দেওয়া যাবে।
কেন ইন্ডিগো সবচেয়ে বেশি সমস্যায়?
দেশীয় অভ্যন্তরীণ উড়ান পরিষেবায় তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় ইন্ডিগোর ওপর এমনিতেই যাত্রীচাপ বেশি থাকে। এই সংস্থার প্রচুর সংখ্যক বিমান রাতে চলাচল করে। নয়া বিধিনিষেধে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাতের বিমান চলাচলেই। নিয়ম মেনে পরিষেবা দিতে গেলে যে সংখ্যক পাইলটের প্রয়োজন, তা এখনও ইন্ডিগোর হাতে নেই। ফলে বিমান সংস্থাটি বাধ্য হয়েই বিশেষ করে রাতের দিকের ফ্লাইটগুলি বাতিল করছে বা পিছিয়ে দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও আশ্বাস:
১,০০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার জেরে শুক্রবার ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স একটি ভিডিও বিবৃতিতে যাত্রীদের কাছে বিশৃঙ্খলা ও অসুবিধার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং আগামী ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লাইট অপারেশন সম্পূর্ণ ভাবে আগের ছন্দে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতেই শুক্রবার কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু গোটা বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিগো কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, নয়া নিয়মবিধি মানতে কেন বিমান সংস্থাগুলিকে আগে থেকে চাপ দেওয়া হয়নি এবং গাফিলতি কোথায় ছিল।