ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে এবার সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে যদি রাজনৈতিক ও আদর্শগত কট্টরপন্থা বৃদ্ধি পায়, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে এ দেশের জাতীয় নিরাপত্তায়। রাজ্য সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তোপ দেগেছেন তিনি।
কী বলছেন শুভেন্দু? শুভেন্দু অধিকারীর মতে, সীমান্তের ওপারে অর্থাৎ বাংলাদেশে যদি মৌলবাদী শক্তির সংহতি বাড়ে, তবে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর এলাকাটি বিপন্ন হতে পারে। উল্লেখ্য, এই সরু ভূখণ্ডটিই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে রাখে। শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ‘তুষ্টিকরণ’ নীতির কারণে অনুপ্রবেশ বাড়ছে, যা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, “রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে সীমান্তে নজরদারি শিথিল করা হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আত্মঘাতী।”
চিকেনস নেক ও কৌশলগত গুরুত্ব: ২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডরটি ভারত রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সীমান্তের ওপারে কোনো প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে, তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো এই করিডরে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি রাজ্যকে পরামর্শ দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দুর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বিএসএফ (BSF) তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। রাজ্যকে অহেতুক দোষারোপ না করে শুভেন্দুর উচিত দিল্লির কাছে জবাবদিহি চাওয়া। তবে ভোটের মুখে ‘জাতীয়তাবাদ’ ও ‘সীমান্ত সুরক্ষা’ নিয়ে শুভেন্দুর এই আক্রমণ গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।