বিপজ্জনক পোষ্য রাখার আগে জেনেনিন মালিকের হতে পারে জেল, বিশেষ বিল পাশ এই জেলায়!

রটউইলার এবং পিটবুলের মতো হিংস্র প্রজাতির কুকুরের আক্রমণে শিশুদের আহত হওয়ার পূর্ববর্তী ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়া সরকার এবার কড়া আইন প্রণয়ন করল। বিধানসভায় পাশ হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত কোনো প্রাণীকে পোষ্য হিসেবে বাড়িতে রাখলে মালিকের ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
‘গোয়া অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড ডমেস্টিকেশন (রেগুলেশন অ্যান্ড কম্পেনসেশন) বিল, ২০২৫’:
নবপ্রণীত ‘গোয়া অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড ডমেস্টিকেশন (রেগুলেশন অ্যান্ড কম্পেনসেশন) বিল, ২০২৫’ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী বা প্রজাতিকে ‘আক্রমণাত্মক বা বিপজ্জনক’ বলে ঘোষণা করতে পারবে। একবার ঘোষণার পর, সেই প্রাণীর পালন, প্রজনন বা আমদানি সবই নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
বিলটি বিধানসভায় পেশ করার সময় বিরোধী দলনেতা ইউরি আলেমাও, গোয়া ফরোয়ার্ড পার্টির বিধায়ক বিজয় সারদেসাই এবং কংগ্রেসের কার্লোস ফেরেইরা এই বিল নিয়ে বিশদে আলোচনার দাবি তোলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত সাফ জানান, “এই পদক্ষেপ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে।”
নতুন আইনের মূল বিধানগুলি:
৩০ দিনের সময়সীমা: কোনো প্রাণীকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হলে, ৩০ দিনের মধ্যে তার মালিককে অ্যানিম্যাল হাসবেন্ড্রি দফতরে তা জানাতে হবে।
স্টেরিলাইজেশন বাধ্যতামূলক: চিহ্নিত প্রাণীকে ৬০ দিনের মধ্যে স্টেরিলাইজ (বন্ধ্যাকরণ) করাতে হবে।
শাস্তির বিধান: আইন অমান্য করলে কমপক্ষে ১৫ দিন এবং সর্বোচ্চ ৩ মাসের জেল হতে পারে, সঙ্গে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা এবং কমিউনিটি সার্ভিস করতে হবে। আদালত চাইলে জেলের বদলে শুধুমাত্র কমিউনিটি সার্ভিসের সাজাও দিতে পারে।
ক্ষতিপূরণের সুযোগ: এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো আক্রমণাত্মক প্রাণীর কারণে কেউ আহত বা প্রাণ হারালে ক্ষতিপূরণ চাওয়া যাবে। দুর্ঘটনার ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৩ মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
তালিকা সংরক্ষণ: বিপজ্জনক প্রাণীদের একটি তালিকা অ্যানিম্যাল হাসবেন্ড্রি ডিরেক্টরেট সংরক্ষণ করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার পিটবুল, রটউইলার, আমেরিকান বুলডগ, ক্যান কোরসো, মাসটিফ-সহ ২৩টি ‘বিপজ্জনক কুকুর’ প্রজাতির আমদানি, বিক্রি এবং প্রজনন নিষিদ্ধ করেছিল। মানুষের প্রাণের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গোয়ার এই নতুন আইন কেন্দ্রীয় সরকারের সেই পদক্ষেপেরই সম্প্রসারণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।