বিনা ইন্টারনেটেও গোপনে মেসেজ চালাচালি! ভারতের নির্দেশে আচমকা নিষিদ্ধ Jack Dorsey-এর তৈরি এই জনপ্রিয় অ্যাপ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুসুরক্ষা ও সাইবার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ভারতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর বিশেষ নির্দেশিকার পর ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও সরিয়ে দেওয়া হলো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘Bitchat’। অ্যাপল (Apple)-এর ইন্ডিয়া অ্যাপ স্টোরের পাশাপাশি গুগল প্লে স্টোর (Google Play Store) থেকেও এই অ্যাপটিকে পুরোপুরি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
টুইটারের (X) প্রাক্তন সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি (Jack Dorsey)-এর তৈরি এই বিশেষ অফলাইন মেসেজিং অ্যাপটি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই উদ্বেগ বাড়ছিল প্রশানের ভেতরে।
কীভাবে কাজ করত Bitchat? কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
সাধারণ মেসেজিং অ্যাপের মতো Bitchat অ্যাপটি চালাতে কোনো প্রকার ইন্টারনেট বা মোবাইল সিম নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হতো না।
ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার: কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলোর ব্লুটুথ পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) বা মেশ নেটওয়ার্কিং কানেক্টিভিটিকে কাজে লাগিয়ে দূরদূরান্তে বার্তা বা নোটিফিকেশন পাঠাতে পারত এই অ্যাপ।
ট্র্যাকিং বা নজরদারির অভাব: সিম কার্ড কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়া চ্যাট আদান-প্রদানের সুবিধা থাকার দরুন কোনো নির্দিষ্ট সার্ভার বা সেন্ট্রাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি: সরকারি সূত্রের খবর, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকলেও এই অ্যাপের মাধ্যমে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা বা আন্দোলন সংঘটিত করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
জ্যাক ডরসির প্রতিক্রিয়া:
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন Bitchat-এর উদ্ভাবক জ্যাক ডরসি। তিনি অ্যাপলের পাঠানো অফিশিয়াল অ্যাপ রিভিউ টিমের একটি নোটিসের স্ক্রিনশট পোস্ট করে লেখেন, “Government of India officially removes Bitchat from the App Store।”
আন্দোলন ও আগের বিতর্ক:
চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রথমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নজরে আসে অ্যাপটি। প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় এই অফলাইন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা সাইবারক্রাইম বিভাগ I4C তখনই মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন GitHub-কে Bitchat-এর কোড সরিয়ে নিতে বলেছিল।
বর্তমানে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে CJP-এর আন্দোলন চলাকালীন, নতুন করে কোনো আইনশৃঙ্খলাজনিত ঝুঁকি না নিতেই তড়িঘড়ি সমস্ত প্রধান অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটিকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় ভারত সরকার।