দিল্লির রাজপথে ধুন্ধুমার! সিইসির পদত্যাগের দাবিতে পুলিশি অ্যাকশন, আটক প্রিয়াঙ্কা, রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ ‘ইন্ডিয়া’

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ভোটচুরি’ ও প্রশাসনিক স্বৈরাচারের মারাত্মক অভিযোগ তুলে দিল্লির রাজপথে নজিরবিহীন আন্দোলনে নামল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। সিইসি-র অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার বিরোধী সাংসদদের ‘নির্বাচন সদন’ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি।

দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শীর্ষ বিরোধী নেতারা অবস্থান বিক্ষোভে বসলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনড় অবস্থানের জেরে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ একাধিক হেভিওয়েট সাংসদকে আটক করে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তোলে।

সরাসরি রাষ্ট্রপতির শরণাপন্ন বিরোধী শিবির:

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বিরোধী শিবির। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের যাবতীয় ‘বেআইনি কার্যকলাপ’-এর বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণসহ খতিয়ান তুলে দিতে আগামী ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের যৌথ স্বাক্ষরসংবলিত একটি বিশেষ চিঠি ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠানো হয়েছে। বিরোধী জোটের লোকসভা ও রাজ্যসভার শীর্ষ সাংসদদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।

দিল্লির রাজপথে অবস্থান ও গ্রেফতারি:

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত বিরোধী জোটের মেগা বৈঠকে সিইসি-র অপসারণ ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা ঐক্যবদ্ধভাবে ‘নির্বাচন সদন’-এর দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। কিন্তু পুলিশ মাঝপথেই তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।

বাধা পেয়ে দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে রাস্তায় বসেই বিক্ষোভে সামিল হন রাহুল গান্ধী সহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জোরপূর্বক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্যান্য সাংসদদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

বুধবারে ৫ মেগাসিটিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক:

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন কেবল দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ রাখছে না বিরোধী জোট। সিইসির ইস্তফার দাবিতে বুধবার দিল্লি সহ দেশের ৫টি প্রধান মেগাসিটিতে একযোগে বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ভোট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের পারদ এখন চরমে।