বক্স অফিসে নজিরবিহীন ইতিহাস! প্রথমবার সিনেমার পর্দায় মুখোমুখি বাবা-ছেলে, লড়াই মামুটি বনাম দুলকার সালমানের!

দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে সৃষ্টি হতে চলেছে এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়। প্রথমবার বক্স অফিসের মহাযুদ্ধে সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছেন মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার মামুটি এবং তাঁরই সুযোগ্য সন্তান, সর্বভারতীয় স্তরের হার্টথ্রব অভিনেতা দুলকার সালমান। ২০২৬ সালের ২০ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে একই দিনে মুক্তি পেতে চলেছে পিতা ও পুত্রের দুটি হেভিওয়েট সিনেমা।
একদিকে ৩টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী বর্ষীয়ান অভিনেতা মামুটির বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ওম চ্যাপ্টার ১ উধিরাম’, আর অন্যদিকে দুলকার সালমানের তামিল-তেলুগু ধামাকা ‘আকাশম লো ওকা তারা’। বাবা-ছেলের এই মেগা সংঘর্ষ ঘিরে বর্তমানে বিনোদন জগতে উত্তেজনা তুঙ্গে।
কেন পিছাল মামুটির ছবির মুক্তি?
প্রথমে রাজকুমার পেরিয়াসামি পরিচালিত মামুটির ছবি ‘ওম’ ১৬ই অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা ছিল। কিন্তু মেগাস্টার রজনীকান্তের মেগা ছবি ‘জেইলার ২’ বক্স অফিসে মুক্তি পাওয়ার কারণে প্রেক্ষাগৃহ ও স্ক্রিন বণ্টনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্মাতারা পিছিয়ে দেন মুক্তির তারিখ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০শে নভেম্বর পর্দা কাঁপাতে আসছে ‘ওম’। আর কাকতালীয়ভাবে, দুলকার সালমানের ‘আকাশম লো ওকা তারা’ ছবিটির মুক্তির দিনও আগে থেকেই নির্ধারণ করা রয়েছে ওই একই ২০শে নভেম্বর!
১৫০ কোটির অ্যাকশন থ্রিলার বনাম অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার:
দুই ভিন্ন ধারার দুই বিগ বাজেট সিনেমার এই লড়াই কিন্তু তীব্র হতে চলেছে:
‘ওম চ্যাপ্টার ১ উধিরাম’: এটি একটি হাই-ভোল্টেজ মেগা বাজেট অ্যাকশন থ্রিলার ছবি, যার আনুমানিক বাজেট প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। ছবিতে মামুটির পাশাপাশি মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে দক্ষিণী সুপারস্টার ধনুশ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে। ধনুশ ও মামুটির অন-স্ক্রিন জুটির মেলবন্ধন প্রেক্ষাগৃহে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘আকাশম লো ওকা তারা’: এটি দুলকার সালমান অভিনীত একটি ভিন্ন স্বাদের রোমান্টিক অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ছবি। ছবিতে দুলকারের বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান এবং সাত্ভিকা বীরভাল্লিকে।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একাধিক তারকার বক্স অফিস সংঘাত দেখা গেলেও, একই দিনে বাবা ও ছেলের সিনেমা মুক্তির এমন হাই-প্রোফাইল দ্বৈরথ আগে কখনো দেখেনি দর্শক। দেড় মাস পরের এই মেগা লড়াইয়ে দর্শকমনে কে শেষ হাসি হাসেন—অভিজ্ঞ বাবা নাকি তরুণ তুর্কি ছেলে—সেটাই এখন দেখার!