২০৪৭ সালের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নে মোদী সরকারের মেগা সিদ্ধান্ত! অনুমোদন পেল শক্তিশালী ITLA, বদলে যাবে পরিবহনের ছবি

২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে অনুমোদন দিল মোদী মন্ত্রিসভা। দেশে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ (লজিস্টিকস) ব্যবস্থার আমূল রূপান্তর ঘটানো এবং অবকাঠামোগত গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত হতে চলেছে ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস অথরিটি (ITLA)।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের প্রস্তাব পাশ হয়। এর ফলে সড়ক, রেলপথ, বিমান চলাচল, বন্দর ও জলপথের মতো খণ্ডিত পরিকল্পনাগুলো এবার এক ছাতার তলায় আসবে।

৪টি মূল বিষয়ে নজর দেবে নতুন গঠিত ITLA:

  • সমন্বিত পরিবহন পরিকাঠামো: লজিস্টিকস ও পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত একাধিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি ও ডিজিটাল নজরদারি চালানো।

  • ১০ বছরের জাতীয় রূপরেখা: জাতীয় স্তরে আগামী ১০ বছরের জন্য একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ট্র্যান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা।

  • ‘ভিশন ২০৪৭’ বাস্তবায়ন: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে লজিস্টিকস ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা করে তুলতে পলিসি সাপোর্ট ও ডেটা অ্যানালিটিক্স সরবরাহ করা।

  • বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন: ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি মূল্যের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের বিশেষ প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা করা।

কীভাবে কাজ করবে এই জাতীয় শীর্ষ সংস্থা (ITLA)?

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পরিবহন মন্ত্রণালয় নিজস্ব নিয়মে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। আইটিএলএ (ITLA) একটি জাতীয় শীর্ষ সংস্থা হিসেবে গবেষণা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও ডেটা বিশ্লেষণের দায়িত্ব সামলাবে। এর ফলে সড়কপথ, রেলপথ, বেসামরিক বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ জলপথ ও নগর পরিবহনের মতো খাতগুলোর মধ্যে অভাবনীয় গতি আসবে। আগামী ৫ বছরের আঞ্চলিক পরিকল্পনাগুলোকেও জাতীয় মহাপরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে সমন্বয় করা হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডেটা মাইনিং:

দেশের পরিবহন খাতের সঠিক চিত্র ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে একটি ‘জাতীয় পরিবহন তথ্য ভান্ডার’ (NTDR) গড়ে তুলবে এই সংস্থা। এর জন্য ফাস্ট্যাগ (FASTag), ই-ওয়ে বিল (GSTN), ‘বাহন’ পোর্টাল, জিপিএস ট্র্যাকিং ও বিভিন্ন শহরের আধুনিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট থেকে প্রাপ্ত বড় ডেটা ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়াও ৫০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের কেন্দ্রীয় পরিকাঠামোগত প্রকল্পের কাজ সময়ে শেষ হওয়া নিশ্চিত করবে এই নতুন কর্তৃপক্ষ। ফলে লজিস্টিকস খরচ কমার পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।