বিধানসভায় বিপ্লব-শুভেন্দু রুদ্ধদ্বার বৈঠক! ২০২৬-এর আগে ‘ত্রিপুরা মডেল’ কি এবার বাংলায়?

রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব। মঙ্গলবার সকালেই বিধানসভায় পৌঁছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বিজেপির বিধায়কদের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করে গেরুয়া শিবিরের চূড়ান্ত রণকৌশল নির্ধারণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকের পর জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিএল সন্তোষের দেওয়া বিশেষ নির্দেশিকা ও দায়িত্বগুলি বিধায়কদের বুঝিয়ে দিতেই এই আয়োজন। বিধানসভার ভেতরে এবং বাইরে তৃণমূলকে কীভাবে কোণঠাসা করা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট ‘ব্লু-প্রিন্ট’ বা নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে এই বৈঠকে। শুভেন্দু এদিন বিপ্লব দেবের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, “বিপ্লব দেব যেখানেই পা রাখেন, সেখানেই সোনা ফলে। ত্রিপুরায় যেমন তিনি দলকে শূন্য থেকে ক্ষমতায় এনেছিলেন, বাংলাতেও তাঁর ছোঁয়ায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে।”

অন্যদিকে, বিপ্লব দেবের গলায় শোনা গিয়েছে কড়া সুর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাংলার মানুষকে বর্তমান অরাজকতা ও জঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি দেওয়া। নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় নেতার এই উপস্থিতি তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়ানোর সুপরিকল্পিত কৌশল।

বাজেট অধিবেশনে শাসকদলকে নিয়োগ দুর্নীতি, সন্দেশখালি ইস্যু এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চেপে ধরতে বিজেপি যে এক চুলও জমি ছাড়বে না, তা আজ বিপ্লব-শুভেন্দু জুটির এই বিশেষ বৈঠক থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy