মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। প্রথা মেনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ভাষণ দিতে উঠলেও, মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া সম্পূর্ণ ভাষণ পাঠ করলেন না তিনি। আট পাতার দীর্ঘ ভাষণের মাত্র তিনটি পাতা পড়েই মাঝপথে থেমে গিয়ে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি আর পড়ব না।”
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছন রাজ্যপাল। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। অধিবেশন কক্ষে রাজ্যপাল প্রবেশ করতেই শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। বিজেপি বিধায়করা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি তোলেন, জবাবে তৃণমূল বিধায়করা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু মন্ত্রিসভা যে আট পাতার ভাষণ লিখে দিয়েছিল, তার মধ্যে মূলত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের গুণগান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার উল্লেখ ছিল।
রাজ্যপাল যখন ভাষণের তৃতীয় পাতায় পৌঁছন, সেখানে লেখা ছিল— ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান…’। ঠিক এই লাইনেই এসে থেমে যান তিনি। এরপর বাকি পাঁচ পাতা আর না পড়েই নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। যাওয়ার সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাততালি দিয়ে রাজ্যপালকে ‘ওয়েল ডান’ বলে অভিনন্দন জানান।
কেন মাঝপথে ভাষণ থামালেন রাজ্যপাল? বিধানসভা সূত্রে খবর, ভাষণের বাকি অংশে ১০০ দিনের কাজ (মনরেগা) বন্ধ হওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ এবং রাজ্যের বিকল্প প্রকল্পের প্রশংসা ছিল। এই ‘রাজনৈতিক’ অংশগুলি পাঠ করা এড়িয়ে গিয়েছেন বোস। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অহেতুক দোষারোপ রাজ্যপাল পড়েননি। আমরা ৪৫ মিনিট শোনার জন্য তৈরি ছিলাম, কিন্তু উনি সাড়ে চার মিনিটে শেষ করেছেন।” উল্লেখ্য, এর আগে তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও রাজ্যপালদের এই একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। ভোটের মুখে রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ নবান্ন ও রাজভবনের তিক্ততা আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।