“বিধবাদেরও সিঁদুর খেলার অনুমতি”-মুঘল আমলে শুরু, এই পুজোয় আজও চালু সেই রীতি

বারাসতের শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজো, যা ‘শিবের কোটা দুর্গাপুজো’ নামে পরিচিত, তার রয়েছে এক অসাধারণ ইতিহাস। জনশ্রুতি অনুসারে, মুঘল সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে এই পুজো শুরু হয়েছিল। বলা হয়, মুঘল সম্রাট আকবরের স্ত্রী যোধা বাঈয়ের নির্দেশে এই পুজো শুরু করেছিলেন শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়।

পুজোর প্রাচীন ঐতিহ্য ও রীতি

শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বারো ভুইয়াঁর অন্যতম প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি এবং শিবের উপাসক। এই কারণেই তাঁর দুর্গা পুজো ‘শিবের কোটা দুর্গাপুজো’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই পুজোয় আজও অনেক প্রাচীন রীতিনীতি মেনে চলা হয়:

  • ধুনো পোড়ানো: অষ্টমীর দিন দেবী দুর্গার সামনে এলাকার প্রবীণ মহিলারা ধুনো পোড়ান। এরপর তাদের কোলে বসলে সারা বছর সুস্থ থাকা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
  • ভোগ রান্না: পুজোর প্রতিদিনই চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে মহা সমারোহে ভোগ রান্না করা হয়।
  • পান্তা-কচু শাক: দশমীতে দেবীকে তার শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর আগে পান্তা ভাত ও কচু শাক খাওয়ানো হয়।
  • বিধবাদের সিঁদুর খেলা: এই পুজোয় কেবল সধবারা নন, পাড়ার বিধবাদেরও সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়ার অনুমতি রয়েছে, যা আজও এক বিরল চিত্র।
  • বিসর্জনের রীতি: বিসর্জনের আগে কাঁধে করে দেবীকে ঘোরানো হয়। এরপর সন্ধ্যের আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার রেওয়াজ আছে।

এখনও সচল ঐতিহ্য

প্রাচীন সেই পুরনো কাঠামোতেই আজও এই পুজো হয়ে আসছে। বর্তমানে ১২তম পুরুষের হাত ধরে কালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে এই পুজো। মন্দিরের বাইরে ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই মন্দিরে নিত্য সেবার দায়িত্বে রয়েছেন প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় এবং প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বে আছেন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়।