ভারতের শক্তি স্বনির্ভরতার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক নতুন দিশা দেখিয়ে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র সাফল্যের সঙ্গে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ (Criticality) অর্জন করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সাফল্যের ফলে ভারত এখন পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির মঞ্চে ভারতের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেবে।
কী এই ‘ক্রিটিক্যালিটি’ এবং এর গুরুত্ব কী?
সহজ ভাষায়, যখন একটি পরমাণু চুল্লিতে পারমাণবিক ফিশন (Fission) প্রক্রিয়াটি এমন একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়াটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে চলতে পারে, তাকেই ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। এটি অর্জিত হওয়ার অর্থ হলো—চুল্লিটি এখন থেকে নিয়মিতভাবে তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে প্রস্তুত।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ:
স্বয়ংসম্পূর্ণতা: এর ফলে পারমাণবিক জ্বালানির জন্য বিদেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় এটি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুতের জোগান নিশ্চিত করবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ: সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে।
শক্তিক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত
বর্তমানে ভারত তার ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিকল্প শক্তির উৎসের দিকে ঝুঁকছে। এই পরমাণু কেন্দ্রের সাফল্য কেবল গ্রিডে অতিরিক্ত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করবে না, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষাতেও বড় ভূমিকা নেবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি ভারতের শিল্পায়নের গতিকেও ত্বরান্বিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই সাফল্য ভারতের পরমাণু শক্তির ইতিহাসে একটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন হয়ে থাকবে। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ আগামী দিনে দেশের আরও একাধিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পথ প্রশস্ত করল।
ভারতের এই জয়যাত্রা কি তবে শক্তির বাজারে অন্য দেশগুলোর একাধিপত্যে থাবা বসাবে? উত্তর এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।





