বিদ্যুৎ ও তেলের প্রবল আকাল! অন্ধকার থেকে দেশকে বাঁচাতে কি বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ?

এক গভীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সরকার। সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর থাকবে। মূলত বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং পরিবহণ খাতে তেলের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন চরম চাপে। দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল, ল্যাবরেটরি এবং শ্রেণিকক্ষে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে এবং যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানি সাশ্রয় করতে ঈদের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে চাপের পরিমাণ অনেকটা কমবে, যা দিয়ে জরুরি পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এবং কোচিং সেন্টারগুলোকেও একইভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ যেমন অকাল ছুটিতে খুশি, তেমনই পরীক্ষা ও সেশনজট নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বহু পরীক্ষার্থী। শিক্ষা মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ বাঁচাতে এই কৃচ্ছ্রসাধন ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। জ্বালানি সংকট না মিটলে ঈদের পরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy