বিদেশের মাটিতেও ভারতীয় সংস্কৃতির রমরমা! আমেরিকায় পুরোহিতদের আয়ের অংক শুনলে চমকে যাবেন আপনিও

আমেরিকায় বসবাসকারী এক ভারতীয় মহিলার সাম্প্রতিক এক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে তিনি প্রবাসে পুরোহিতদের মোটা অঙ্কের আয়ের তথ্য ফাঁস করেছেন, যা শুনে নেটিজেনদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। মার্কিনপ্রবাসী ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সরিকা যাদবের এই ভিডিওটি এখন নেটপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ভিডিওতে সরিকা জানিয়েছেন, আমেরিকায় কোনো বাড়িতে একটি সাধারণ সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন করতে গেলে পুরোহিতদের পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, যার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৩৩ হাজার টাকার সমান। এখানেই শেষ নয়, এর পাশাপাশি মন্দিরের আলাদা ফি হিসেবে আরও ১০০ থেকে ১৫০ ডলার দিতে হতে পারে। বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবের মরসুমে এই চাহিদা ও পারিশ্রমিক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

গৃহপ্রবেশ, নতুন গাড়ি কেনা, ধনতেরাস কিংবা শ্রাবণ মাসের মতো শুভ দিনে পুরোহিতদের ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দক্ষ পুরোহিতের চাহিদাও বাড়ছে। ভিডিওতে সরিকা আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, কীভাবে বহু পুরোহিত বিশেষ ‘আর-১’ (R-1) ভিসার মাধ্যমে ধর্মীয় কর্মী হিসেবে আমেরিকায় পাড়ি জমান। এর জন্য তাদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কঠোর যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া পার করতে হয়। একবার সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, পুজো-পাঠ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তাঁদের সম্মানজনক কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

তবে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মজার ছলে লিখেছেন, “সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে এবার পুরোহিতের কাজ শিখতে হবে!” তবে সমালোচকদের একাংশ আবার সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র ডলারকে টাকায় রূপান্তর করে দেখলে ভুল হবে। কারণ আমেরিকায় বসবাসের খরচ, ট্যাক্স, স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনযাত্রার মান ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। তাই ওই আয়কে সেখানকার স্থানীয় খরচের সঙ্গে তুলনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সব মিলিয়ে, বিদেশে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসারের বিষয়টি যেমন একদিকে গর্বের, অন্যদিকে প্রবাসে পুরোহিতদের এই আর্থিক দিকটিও সাধারণ মানুষের কাছে বেশ কৌতূহলী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আলোচনা কি ভবিষ্যতে পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কোনো নতুন চিন্তার খোরাক জোগাবে? সে উত্তর দেবে সময়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy