বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করে কোটি টাকার প্রতারণা! আইটি হারবারে কীভাবে চলছিল এই ভুয়ো কল সেন্টার?

রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি তালুক সল্টলেক সেক্টর ফাইভে ফের একটি আন্তর্জাতিক ভুয়ো কল সেন্টারের হদিস মিলল। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা এবং ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার যৌথ উদ্যোগে এক আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। এই সফল অভিযানে সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট, কম্পিউটার এবং বিভিন্ন সন্দেহজনক নথিপত্র।
পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, সেক্টর ফাইভের একটি আধুনিক বহুতল ভবনের ষষ্ঠ
তলায় অফিস ঘর ভাড়া নিয়ে সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ কল সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বিদেশি নাগরিকদের নানা লোভনীয় প্রতিশ্রুতি ও ভুয়া স্কিমের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। তবে তদন্তের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সাইবার অপরাধের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখার স্বার্থে পুলিশ এখনই এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড বা অন্যান্য বিবরণ প্রকাশ করতে চাইছে না। আটক হওয়া ব্যক্তিদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র এবং এর পেছনে সক্রিয় মূল পান্ডাদের খোঁজ চালাচ্ছে তদন্তকারী দল।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় এই ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত মাসেও কলকাতার পোর্ট ডিভিশনের সাইবার সেল একটি ভুয়ো কল সেন্টার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছিল। সেই ঘটনায় মোট ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মূলত ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতেই সেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। মেটিয়াব্রুজ থানার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রতারকরা নিজেদের নামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘টাটা ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স’-এর কর্মী পরিচয় দিয়ে লোন পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২৫,৪৫০ টাকা আত্মসাৎ করেছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সল্টলেকের প্রাণকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ফেক কল সেন্টারের এই বিপুল জালিয়াতি চক্র ধরা পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শিল্পাঞ্চলে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের আদালতে পেশ করে রিমান্ডে নেওয়া হবে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে তল্লাশি অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে।