বিদেশি জাহাজের দাদাগিরি শেষ? ভারতের জলসীমা দখলে ১০০ নতুন জাহাজের মেগা প্ল্যান কেন্দ্রের!

ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজ বহরকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমাতে এবার এক সুদূরপ্রসারী ও বিরাট রোডম্যাপ তৈরি করল ন্যাশনাল শিপিং বোর্ড। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ বহরে নতুন করে ১০০টি জাহাজ যুক্ত করার এক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির মর্যাদাপূর্ণ সিভিল সার্ভিসেস অফিসার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ন্যাশনাল শিপিং বোর্ডের প্রথম ‘সাগর সংবাদ’ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই এই মেগা পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০’ এবং ‘মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’-এর সার্বিক রোডম্যাপ নিয়ে দিনভর এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের মেরিটাইম খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য, বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর-সহ মন্ত্রকের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা। এছাড়াও দেশের বিশিষ্ট জাহাজ মালিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন মেরিটাইম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণরত আধিকারিকরাও এই বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

‘সাগর সংবাদ’ অর্থাৎ সমুদ্র সংলাপের মূল ভাবধারাকে সামনে রেখে ন্যাশনাল শিপিং বোর্ড তাদের প্রধান বার্তা তুলে ধরেছে—‘Wisdom in the Ocean, Progress in the Nation’। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল শিপিং বোর্ডের প্রথম সরকারি ওয়েবসাইটটিরও শুভ উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। পাশাপাশি, বোর্ডের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট এবং বিভিন্ন সাব-কমিটির রিপোর্টও তাঁর হাতে তুলে দেন এনএসবি-র চেয়ারপার্সন সমীর কুমার খারে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ১৯৫৮ সালে গঠিত ন্যাশনাল শিপিং বোর্ড যে মন্ত্রককে পরামর্শ দেয়, এই সংস্থা তার থেকেও প্রাচীন। নতুন মার্চেন্ট শিপিং অ্যাক্ট, ২০২৫ এবং ন্যাশনাল শিপিং বোর্ডের নতুন নিয়মের মাধ্যমে বর্তমানে এই বোর্ডের ভূমিকা আরও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। দেশের নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, প্রযুক্তিবিদ এবং সুধী সমাজকে এক মঞ্চে এনে সকলের সম্মিলিত মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে ভারতের ভবিষ্যৎ শিপিং নীতি তৈরি করাই এই অভিনব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে ভারতের বাণিজ্যের একটি বড় দুর্বলতা হলো শিপিং খাতের ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত প্রতি বছর প্রায় ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি শিপিং সংস্থাগুলিকে ফ্রেট বা ভাড়াবাবদ প্রদান করে থাকে। অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং ইউরিয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এখনও বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভর করতে হয় দেশকে। এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে আগামী দিনে নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সর্বাত্মক জোর দেওয়া হয়েছে।