গুয়াহাটি স্টেশনে ট্রেন থেকে উদ্ধার আড়াই কোটির মাদক! রেলের কামরায় এত বড় কারবার দেখে চোখ কপালে পুলিশের!

রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)-র যৌথ উদ্যোগে এক বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট জংশন গুয়াহাটি রেল স্টেশনে একটি চলমান প্যাসেঞ্জার ট্রেনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার সংঘটিত এই আকস্মিক ও সফল অভিযানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার অবৈধ মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা ঘিরে গোটা রেল চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মঙ্গলবার গুয়াহাটি RPF-এর এক দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, অপরাধ দমন ও নজরদারি নিশ্চিত করতে গুয়াহাটি স্টেশনের ক্রাইম প্রিভেনশন অ্যান্ড ডিটেকশন স্কোয়াড এবং নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (NCB) গুয়াহাটি আঞ্চলিক শাখা যৌথভাবে একটি বিশেষ দল গঠন করে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ দল ডিএন কামরূপ এক্সপ্রেসে অতর্কিত তল্লাশি অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালীন ট্রেনের এ-২ (A-2) কোচের ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর সময় ১৭ ও ১৮ নম্বর বার্থে বসে থাকা দুই যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার আধিকারিকদের বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে ওই দুই যাত্রীকে জেরা করা হয় এবং তাদের সাথে থাকা সন্দেহভাজন লাগেজ ও ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। আর তখনই তল্লাশিতে বড়সড় সাফল্য আসে। ব্যাগপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে উদ্ধার হয় অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি পৃথক প্যাকেট, যার ভেতরে ছিল নিষিদ্ধ মাদক হেরোইন বা ব্রাউন সুগার।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই যৌথ দলটি দুই অভিযুক্ত যুবককে ঘটনাস্থলেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ২২ বছর, যার নাম আজাবুর রহমান এবং অপর জনের বয়স মাত্র ১৮ বছর, নাম শাহজাহান আলি। RPF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া চারটি প্যাকেট ওজন করে মোট ১.১৬৮ কেজি (অর্থাৎ ২৯২ গ্রাম, ২৮৯ গ্রাম, ৩১০ গ্রাম এবং ২৭৭ গ্রাম অনুপাতে) সন্দেহজনক হেরোইন পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে NCB গুয়াহাটির আধিকারিকরা সমস্ত প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে মেনে এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ মাদক বাজেয়াপ্ত করেন।

এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই ঘটনায় এনসিবি (NCB) গুয়াহাটি শাখা কর্তৃক ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট সুনির্দিষ্ট এনডিপিএস (NDPS) আইনের ৮(সি)/২১(সি)/২৯ ধারায় একটি জোরালো মামলা রুজু করা হয়েছে। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কালোবাজারে আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। দেশের রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কীভাবে মাদক পাচার চলছে, তা দমনের জন্য এই ধরনের যৌথ অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।