ক্রীড়া সাংবাদিক জোনাথন উইলসনের মতে, পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাস কোনো সরলরেখা নয়; এটি একটি বিষাদসিন্ধু—যার এক কূলে পরম প্রাপ্তি, আর অন্য কূলে আটলান্টিক মহাসাগরের মতো বিশাল দীর্ঘশ্বাস। লিসবনের বেলেম টাওয়ার থেকে আটলান্টিকের দিকে তাকালে যেমন এক অব্যক্ত বিষণ্নতা ভর করে, পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসও অনেকটা সেরকমই। দিগন্ত ছুঁতে ছুঁতে বারবার ফিরে আসার গল্প।
ইউসেবিও থেকে রোনালদো: এক দীর্ঘ যাত্রার উপাখ্যান
১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ‘কালো চিতা’ ইউসেবিও প্রথম পর্তুগালকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন পরিচয় দিয়েছিলেন। মোজাম্বিক থেকে আসা সেই অকুতোভয় ফুটবলার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যে লড়াই করেছিলেন, তা আজও ফুটবল ইতিহাসের রূপকথা। তবে সেই সোনালী সময় শেষে পর্তুগিজ ফুটবল দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চ থেকে ছিল নির্বাসিত।
সোনালী প্রজন্মের আক্ষেপ ও নতুন স্বপ্ন
নব্বইয়ের দশকে লুইস ফিগো, রুই কোস্তা ও দেকোদের নিয়ে গড়া ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ ইউরোপীয় ফুটবলে কাব্যিক ফুটবল উপহার দিলেও, বড় ট্রফির স্বাদ অধরাই থেকে গিয়েছিল। সেই রেশ কাটিয়ে যখন নতুন যুগের সূচনা হলো, তখন মঞ্চে এলেন এক তরুণ তুর্কি—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
শেষের শুরু না কি ইতিহাসের নতুন অধ্যায়?
আজ পর্তুগাল যখন ফের বিশ্বকাপ মঞ্চে নামছে, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল একটিই নাম—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা খেলছেন তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও হাতে ওঠেনি ট্রফি।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই আসরটি কি রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ? নাকি এটি কেবল তার অমরত্বের নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা? ইউসেবিও’র সেই কান্নার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পর্তুগালের ফুটবলীয় তৃষ্ণা আজও মেটেনি। আটলান্টিকের পাড়ের এই দেশটির মানুষ এখন তাকিয়ে আছে তাদের চিরচেনা অধিনায়কের দিকে। রোনালদো কি পারবেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পর্তুগালকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে? নাকি আবারও আটলান্টিকের অতল গহ্বরে মিলিয়ে যাবে এক দীর্ঘশ্বাস?
সময়ের উত্তর এখন কেবল সময়ের কাছেই। আপাতত গোটা ফুটবল বিশ্বের চোখ রোনালদোর বুটজোড়ার ওপর।





