২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রশাসনিক স্তরে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। শিক্ষককে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগে নদিয়ার হাসখালি ব্লকের বিডিও (BDO) সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোট চলাকালীন কোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এহেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাজ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭শে মার্চ। রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ (Election Training) চলাকালীন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে বিডিও-র বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মেজাজ হারিয়ে ওই শিক্ষককে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করেন বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য। জখম শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনার পর থেকেই শিক্ষকদের সংগঠনগুলি দোষী বিডিও-র শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছিল।
তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন আজ এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষা করা কমিশনের অগ্রাধিকার। প্রশিক্ষণের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এই ধরণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ১ এপ্রিল থেকে ভোটপ্রক্রিয়া আরও জোরদার হওয়ার আগে এই সাসপেনশন অর্ডার দিয়ে কমিশন আসলে সব স্তরের আধিকারিকদের সতর্কবার্তা দিল— ভোটার বা ভোটকর্মী, কারও প্রতি অমর্যাদাকর আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। আপাতত বিডিও-র এই শূন্যপদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছে কমিশন।