এক টুকরো বিড়ালছানা পোষা নিয়ে মা ও মেয়ের মধ্যে সামান্য বচসা। কিন্তু সেই তুচ্ছ বিবাদ যে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে এগোবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা শহরে। নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হলো এক তরুণী চিকিৎসকের নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মায়ের ওপর অভিমান করেই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
মৃত তরুণী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন এবং অত্যন্ত মেধাবী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়িতে একটি বিড়াল পোষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু মা স্বাস্থ্যবিধি বা অন্য কোনও কারণে তাতে বাধা দিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে এই নিয়ে মা ও মেয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই ক্ষোভে ও অভিমানে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন ওই তরুণী। দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া শব্দ না মেলায় পরিবারের লোকেরা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন এবং স্তম্ভিত হয়ে যান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণী চিকিৎসকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এর পিছনে অন্য কোনও মানসিক অবসাদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” একজন জীবনদায়ী চিকিৎসকের এমন তুচ্ছ কারণে জীবন বিসর্জন দেওয়ার ঘটনায় পরিবার তো বটেই, তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামান্য একটি পোষ্যকে কেন্দ্র করে কেন এমন জেদ তৈরি হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।