বিজ্ঞানসম্মত ডিএনএ রিপোর্টে বড় ধাক্কা! কেন কমছে হাতির সংখ্যা? ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডে ৪১% হ্রাস নিয়ে চিন্তা

দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিল বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার ফলাফল। প্রথমবারের মতো ডিএনএ-ভিত্তিক এই জরিপ অনুসারে, ভারতে বন্য হাতির সংখ্যা এখন ২২,৪৪৬-এ নেমে এসেছে, যা ২০১৭ সালের অনুমান (২৭,৩১২) থেকে প্রায় ১৮ শতাংশ কম। এই বিশালকায় প্রাণীদের সংখ্যা হ্রাসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।
ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গণনা:
পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (MoEFCC), প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট এবং উইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (WII) যৌথভাবে পরিচালিত ‘অল-ইন্ডিয়া সিঙ্ক্রোনাইজড এলিফ্যান্ট এস্টিমেশন’ (SAIEE) ২০২৫-এর অংশ হিসেবে এই সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
এই জরিপের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক:
১. পদযাত্রা: সমীক্ষাকারীরা হাতির পায়ের ছাপ, খাদ্যের অবশেষের মতো চিহ্ন সংগ্রহ করেছেন।
২. স্যাটেলাইট ডেটা: আবাসস্থলের মান এবং মানুষের হস্তক্ষেপ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
৩. ডিএনএ বিশ্লেষণ: সবচেয়ে উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে ১২,০০০-এরও বেশি হাতির মলের নমুনা থেকে ৪,০৬৫টি অনন্য হাতির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্ক-রিক্যাপচার মডেল ব্যবহার করে মোট জনসংখ্যা ২২,৪৪৬ অনুমান করা হয়েছে, যার পরিসর ১৮,২৫৫ থেকে ২৬,৬৪৫।
আশার আলো: দেশের শীর্ষে কর্ণাটক
সামগ্রিকভাবে হাতির সংখ্যা কমলেও, কর্ণাটক রাজ্য এখন ভারতের সবচেয়ে বেশি বন্য হাতির আবাসস্থল হয়ে উঠেছে, যার অনুমানী সংখ্যা ৬,০১৩। এটি দেশের মোট হাতির সংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। বান্দিপুর, নাগারহোল, বিলিগিরি রঙ্গা টেম্পল টাইগার রিজার্ভ এবং মালাই মহাদেশ্বর হিলস ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি—এই অঞ্চলগুলোতে হাতির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
দেশের অন্যান্য রাজ্যে হাতির সংখ্যা: অসম (৪,১৫৯), তামিলনাড়ু (৩,১৩৬), কেরল (২,৭৮৫) এবং উত্তরাখণ্ড (১,৭৯২)। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে মিলিয়ে মোট ৬,৫৫৯ হাতি রয়েছে, যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যা।
সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ উদ্বেগজনক:
হাতির সংখ্যা সামগ্রিকভাবে হ্রাসের পিছনে মূল কারণগুলো অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। আবাসস্থলের ক্ষয়—জঙ্গল কেটে শিল্পায়ন, খনি, রাস্তা এবং রেলপথ নির্মাণ হাতিদের জীবনকে বিপন্ন করছে। এর সঙ্গে বেড়েছে মানুষ-হাতির সংঘর্ষ, যেখানে গত কয়েক বছরে শত শত মানুষ এবং কয়েক ডজন হাতি প্রাণ হারিয়েছে। বিশেষ করে ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডের মতো মধ্য ভারতের রাজ্যগুলিতে হাতির সংখ্যা ৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা পরিবেশবিদদের কাছে গুরুতর উদ্বেগের কারণ।