এআই-এর হাত ধরে কি ধ্বংসের মুখে পৃথিবী? চাকরি ছেড়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ গবেষকদের!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দুনিয়ায় একদিকে যেমন যুগান্তকারী প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, অন্যদিকে তেমনই তৈরি হচ্ছে এক গভীর ও অদৃশ্য সংকট। সম্প্রতি এআই জায়ান্ট ‘অ্যানথ্রপিক’-কে ঘিরে এমন দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা গোটা প্রযুক্তি বিশ্বকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। একদিকে সংস্থার জনপ্রিয় এআই মডেল ‘ক্লড’ (Claude AI)-এর অপব্যবহার রুখতে ১৫৪ পাতার একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, ভবিষ্যতের এই প্রযুক্তিগত বিপদ আঁচ করতে পেরেই অ্যানথ্রপিকের শীর্ষস্থানীয় দুই গবেষক আকস্মিক পদত্যাগ করে এক গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন প্রখ্যাত গবেষক জ্যাকব কক্সন (Jacob Coxon)। এর আগে ওপেনএআই-এর হয়েও কাজ করা এই গবেষকের স্পষ্ট দাবি, বড় বড় টেক জায়ান্টগুলি যেভাবে ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি মানুষের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন অনেক এআই সিস্টেম তৈরি হচ্ছে যা নিজের কোড নিজে উন্নত করতে পারে এবং মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে বহু পেছনে ফেলে দিতে পারে। এর ঠিক পরেই সংস্থার স্ক্যালেবল ওভারসাইট টিমের সেফটি ম্যানেজার জো বেনটনও (Joe Benton) পদত্যাগ করে স্বাধীন এআই সেফটি অর্গানাইজেশন এমইটিআর (METR)-এ যোগ দেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে এমন এআই এজেন্ট তৈরি হতে পারে যাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আশঙ্কার মাঝেই গত ১০ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিক তাদের বহুল আলোচিত ১৫৪ পাতার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অগস্ট মাসের মধ্যে তাদের ‘ক্লড’ এআই সিস্টেমটিকে অপব্যবহার করার বহু অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার আক্রমণ চালানো, গোপনীয় নজরদারি, প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা, প্রচলিত অস্ত্রের জন্য সফটওয়্যার তৈরি এবং সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে জৈবিক অস্ত্র বা বায়োলজিক্যাল উইপনস সংক্রান্ত মারণ গবেষণা চালানোর মতো গুরুতর ঘটনাও ধরা পড়েছে। যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে যে, এই ধরনের প্রতিটি ক্ষতিকর অ্যাকাউন্ট তৎক্ষণাৎ ব্লক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে।
একদিকে অ্যানথ্রপিক যখন বর্তমানের এই অপব্যবহার সফলভাবে ঠেকানোর দাবি করছে, তখন সংস্থারই প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের এই পদত্যাগ ও বিস্ফোরক দাবি প্রযুক্তি জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির লাগামছাড়া গতিবিধি, সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট এবং এর ব্যাপক ক্ষমতার বিস্তার রোধে এখনই আন্তর্জাতিক স্তরে কঠোর ও ন্যূনতম নিরাপত্তা মানদণ্ড বা মিনিমাম সেফটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা জরুরি, অন্যথায় এর খেসারত দিতে হতে পারে সমগ্র মানবজাতিকে।