বিজেপি সরকারের মিশন ‘বিকশিত বাংলা’! রাজ্যের আর্থিক হাল ফেরাতে তৎপর অর্থমন্ত্রী

রাজ্যের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই আর্থিক পরিকাঠামো বদল ও উন্নয়নমূলক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নতুন সরকার। রবিবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সভাপতি হরিপদ ভারতীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে দলের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।

‘সংকল্প পত্র’ পূরণের বার্তা অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা সরকার চালাচ্ছি এবং আমাদের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইস্তেহারে দেওয়া ‘সংকল্প পত্র’ পূরণ করা। মানুষের দেওয়া ম্যান্ডেট রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ।” তিনি মনে করিয়ে দেন, আজকের এই বিজেপি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন হরিপদ ভারতীর মতো জননেতারা।

বিজেপির উত্থান ও আদর্শ স্বপন দাশগুপ্ত এদিনের মঞ্চ থেকে বিজেপির দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “৭০-৭১ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরে যে আন্দোলনের শুরু, আজ তা বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। হরিপদ ভারতীর মতো নেতারা কার্যকর্তা তৈরি করতেন, তাঁরা ছিলেন ‘লিডার অফ লিডারস’। তাঁদের আদর্শ মেনেই আমরা আজ রাজ্যে পরিবর্তনের পথে হাঁটছি।”

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় সরকার রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত তৎপর। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল এবং রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। দিল্লির বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সাথেও বাংলার অর্থ ব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর কথায়, গত ১৫ বছরে রাজ্যে শিল্পের যে অভাব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ফের বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এখন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বচ্ছ ও মুক্ত অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ‘বেঙ্গল ইজ ব্যাক’—অর্থাৎ বাংলা আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।