নববর্ষের দিনেও বিশ্রাম নেই, নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। বিশেষ করে তাঁর গাড়ি তল্লাশি করা নিয়ে যে চাঞ্চল্যকর দাবি তিনি করেছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
“আমি চোর-ডাকাত নই”: এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে জানান যে, বুধবার সকালেই দমদমে তাঁর গাড়ি তল্লাশি করতে এসেছিল আধিকারিকরা। মমতা বলেন, “সাহস থাকলে প্রতিদিন আমার গাড়িতে তল্লাশি করুন। আজও দমদমে এসেছিল, আমি কিন্তু ছেড়ে দিয়েছি। পরে ভয়ে পালিয়ে গেছে। আমি খুশি হয়েছিলাম, কারণ বিজেপির মতো আমি চোর-ডাকাত নই।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারি কোনো বেতন বা পেনশন নেন না।
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ওপর ক্ষোভ: তল্লাশি নিয়ে ‘বৈষম্যের’ অভিযোগ তুলে মমতা প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু তৃণমূল নেতাদের গাড়িই চেক করা হচ্ছে? তাঁর সাফ কথা, “প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিআরপিএফ-এর গাড়িতে কেন তল্লাশি হবে না? বিজেপির গাড়ি কেন বাদ যাবে? এটা কেমন নির্বাচন হচ্ছে?” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বুলডোজ়ার আতঙ্ক: এদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় আশ্বাস দিয়ে মমতা বলেন, এই প্রকল্প আজীবন চলবে। পাশাপাশি যুবসাথীদের চাকরি এবং কাঁচা বাড়ি পাকা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তবে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এখন টাকার ভাণ্ডার নিয়ে নেমেছেন? জেনে রাখবেন, নির্বাচনের পর ওরা বুলডোজ়ার নিয়ে আসবে আর আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে। ভয় পাবেন না।”
বদলা নেওয়ার ডাক: আধিকারিকদের ‘চমকানো’ নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কৃষক ও মা-বোনেদের উদ্দেশে বলেন, “বাংলার কৃষক ও মা-বোনেরা কি মরে গেছেন? এবার ভোটের বাক্সে এই সব বঞ্চনার বদলা নিন আপনারা।”
ইসলামপুরের এই সভা থেকে মমতার ‘গাড়ি চেক’ করার চ্যালেঞ্জ যে নির্বাচনী উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





