বিজেপি থেকে আপ—সবার হয়েই কাজ করেছি, তবে কেন এই রেড? ইডি-র বিরুদ্ধে তোপ দাগল I-PAC!

কয়লা দুর্নীতি মামলায় উত্তাল বাংলা। খোদ ভোট কৌশলী সংস্থা I-PAC-এর অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর ম্যারাথন তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে এই ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল প্রশান্ত কিশোরের হাতে তৈরি এই সংস্থা। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি কড়া বিবৃতি দিয়ে আইপ্যাক এই তল্লাশি অভিযানকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের দিন এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়’ বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আইপ্যাক একটি পেশাদার সংস্থা যারা রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে কাজ করে। বিজেপি, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (AAP), ডিএমকে (DMK), বিআরএস (BRS) এবং জেডিইউ (JDU)-র মতো একাধিক দলের সাফল্যের নেপথ্যে তাদের পেশাদারিত্বের নজির রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে এমন একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তা গণতান্ত্রিক পরিসরে অশনিসংকেত বলেই মনে করছে তারা। তবে সংঘাতের আবহেও তদন্তে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রতীক জৈনের সংস্থা।

এদিকে, এই তল্লাশিকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। তল্লাশি চলাকালীন তিনি নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন আইপ্যাক অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইডি আধিকারিকরা তৃণমূলের অত্যন্ত গোপনীয় নথি, ভোটের স্ট্র্যাটেজি, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতীকের ফোন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সবুজ ফাইল’ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

ঘটনাটি এখন আদালতের দোরগোড়ায়। ইডি অভিযোগ তুলেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়েছেন, এবং এর প্রেক্ষিতে তারা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। পাল্টা ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়লা দুর্নীতির ছায়া এখন বাংলার নির্বাচনী রণকৌশলের অন্দরমহলে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy