জল্পনার অবসান হতে চলেছে। আজ, বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বুধবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (CEC) মেগা বৈঠকের পর এই সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডা। রাজ্য থেকে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের মতো শীর্ষ নেতারা।
ইতিমধ্যেই ১৪৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। আজ বাকি ১৫০টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে।
বিজেপি সূত্রের খবর, এবার আর গতবারের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে না দিল্লি। ২০২১-এর নির্বাচনে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের টিকিট দিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি। তাই এবারের মন্ত্র— ‘পার্টির পুরনো ও লড়াকু কর্মীদেরই সম্মান’।
সংখ্যালঘু প্রার্থী: প্রথম তালিকায় কোনো মুসলিম মুখ না থাকায় সরব হয়েছিল তৃণমূল। তবে দ্বিতীয় তালিকায় মুর্শিদাবাদের কোনো একটি আসন থেকে জনৈক মুসলিম মহিলাকে প্রার্থী করে চমক দিতে পারে বিজেপি।
দলবদলুদের জন্য শক্ত দরজা: তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া অনেক বিধায়কই বর্তমানে দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ছেন। তবে সূত্রের খবর, এবার দলবদলু বা ‘মরশুমী’ নেতাদের বদলে খাঁটি বিজেপি কর্মীদের ওপরই ভরসা রাখছেন মোদী-শাহ জুটি।
প্রথম দফায় শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল বা শিখা চট্টোপাধ্যায়ের মতো পুরনো ও পরিচিত মুখদের ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তালিকাতেও দেবশ্রী চৌধুরী, হিরণ চট্টোপাধ্যায় বা তাপস রায়ের মতো ‘হেভিওয়েট’ অথচ দলীয় লাইনে থাকা নেতাদের নাম থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
বিজেপির স্ট্র্যাটেজি: বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, প্রার্থী নির্বাচনে এবার পেশা ও তারুণ্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম তালিকায় যেমন প্রচুর শিক্ষক, ডাক্তার ও আইনজীবী ছিলেন, দ্বিতীয় পর্যায়তেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
ভোটের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট হবে বাংলায়। হাতে সময় কম, তাই আজই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে প্রচারে ঝড় তুলতে চায় পদ্ম শিবির।