বিজেপির তোপ, মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করতেই শুরু চরম সমালোচনা! দুর্গাপূজাকে কি ‘রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ’ বানাচ্ছে রাজ্য সরকার?

খানাকুলের ঘোষপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবার থিম নিয়ে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এ বছরের পুজোর থিম হল—”ডিভিসির জল: খানাকুলের দুর্দশা!!!” দুর্গাপূজার মতো একটি সর্বজনীন উৎসবের মঞ্চ ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা দামোদার ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল বিজেপি।
বিতর্কের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন
এই পুজো প্যান্ডেলটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নিয়ে সমালোচনা আরও ব্যাপক হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের একটি প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার তাদের ব্যর্থতা ও বন্যা ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার দায় ডিভিসির ওপর চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে।
খানাকুলের স্থানীয় মানুষের একাংশের অভিযোগ, তাদের দুর্দশার জন্য ডিভিসি নয়, বরং রাজ্য সরকারের অপরিকল্পিত প্রশাসন এবং সমাধানের পরিবর্তে প্রচারের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়াই দায়ী। দুর্গাপূজার মতো পবিত্র উৎসবকে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করাকে সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবনার অপমান বলেও মনে করছেন অনেকে।
জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে যখন হুগলি জেলার জেলাশাসক শ্রীমতী মুক্তা আর্য এই পুজো প্যান্ডেল পরিদর্শনে গিয়ে ডিভিসির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর এই আচরণকে সমালোচকরা রাজনৈতিক স্বার্থে তোষামোদ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনাটি রাজ্যের শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন এমন একজন পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তার ওপর কি সত্যিই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভার দেওয়া যায়?
সাধারণ মানুষের মতে, দুর্গাপূজার মতো সর্বজনীন উৎসবকেও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলার প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।