আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে রাজকীয়ভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। সাথে নিয়েছেন দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকেও। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সংখ্যার জোরে তিনি সুরক্ষিত, কিন্তু সংবিধানের দশম তফশিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) একটি সূক্ষ্ম প্যাঁচ ঘুম উড়িয়েছে রাঘব শিবিরের। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে বা অজিত পাওয়ারের মতো নিজের পদ বাঁচাতে পারবেন?
সংখ্যার খেলায় জিতেও কেন ভয়?
সাধারণভাবে প্রচলিত ধারণা হলো, দলের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সাংসদ বা বিধায়ক ভাঙলে পদ রক্ষা পায়। কিন্তু সংবিধানের আসল শর্তটি আরও কঠিন:
শুধু সাংসদ সংখ্যা যথেষ্ট নয়, মূল রাজনৈতিক দলটির (AAP) সাথে অন্য দলের (BJP) আনুষ্ঠানিক সংযুক্তিকরণ বা Merger জরুরি।
যদি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ দল হিসেবে বিজেপির সাথে মিশে না যায়, তবে কেবল সাংসদদের এই দল পরিবর্তনকে ‘সংযুক্তিকরণ’ নয়, বরং ‘দলত্যাগ’ হিসেবেই দেখা হবে।
এক্ষেত্রে ‘আপ’ যদি নিজেকে স্বতন্ত্র দল হিসেবে বজায় রাখে, তবে রাঘব চাড্ডা এবং তাঁর সঙ্গী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের ক্ষমতা থাকবে স্পিকারের হাতে।
শিন্ডে-পাওয়ার মডেল বনাম রাঘব ফ্যাক্টর
মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডে বা অজিত পাওয়ারের ক্ষেত্রে বিধানসভার স্পিকার তাঁদের গোষ্ঠীকেই ‘আসল দল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয়নি। কিন্তু রাঘব চাড্ডার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। এখানে ‘আপ’ দলটিকে কবজা করার চেয়েও বড় লক্ষ্য বিজেপিতে যোগদান। যদি আইনি লড়াই শুরু হয়, তবে নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
নেপথ্যের কারণ: কেন এই বিদ্রোহ?
রাঘব চাড্ডার এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ:
রাজ্যসভার উপ-নেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে নীতিগত মতপার্থক্য।
পাঞ্জাব ও দিল্লি ইউনিটের ক্ষমতার লড়াইয়ে কোণঠাসা হওয়া।
বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাঘব একে ‘ইতিবাচক রাজনীতি’ বললেও আপ নেতারা একে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন।
স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর
যদি আম আদমি পার্টি সরকারিভাবে বিজেপির সাথে মিশে না যায়, তবে রাঘব চাড্ডার সাংসদ পদ বাঁচাতে আইনি লড়াই হবে দীর্ঘ। তাঁকে যদি অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, তবে ভারতীয় রাজনীতিতে এটি একটি বড় নজির হয়ে থাকবে যে, কেবল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও সব সময় রক্ষাকবচ হতে পারে না।
সম্পাদকীয় কলম: রাঘব চাড্ডার ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ১০ লক্ষ ফলোয়ার হারানোর পর এবার কি সংসদীয় পদও খোয়াবেন তিনি? আইনি প্যাঁচ বনাম রাজনৈতিক কৌশলের এই লড়াই এখন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে সবথেকে বড় টপিক।





