বিজেপিতে যোগ দিতেই চূড়ান্ত ট্রোলিংয়ের শিকার রাঘব চাড্ডা, হাইকোর্টে বড় জয় সাংসদের!

আম আদমি পার্টি থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রবল ট্রোলিং ও সোশ্যাল মিডিয়া আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁর ছবি, কণ্ঠস্বর ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট। এই পরিস্থিতিতে নিজের সম্মান রক্ষায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে সেই মামলায় সাংসদকে কিছুটা স্বস্তি দিল আদালত।

হাইকোর্ট পাঁচটি নির্দিষ্ট আপত্তিকর পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। সাংসদের অভিযোগ ছিল, অনলাইনে প্রচারিত ওই সমস্ত কন্টেন্টে তাঁকে এমনভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে যেন তিনি কেবল আর্থিক লাভের জন্য নিজের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তন করেছেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া ডিপফেক, মর্ফ করা ভিডিও এবং কৃত্রিম কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে যে প্রচার চালানো হচ্ছিল, তা তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেন রাঘব চাড্ডার আইনজীবী রাজীব নায়ার।

তবে, রাঘব চাড্ডার ‘ব্যক্তিত্বের অধিকার’ (Personality Rights) লঙ্ঘনের দাবিটিকে পুরোপুরি মান্যতা দেয়নি আদালত। দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘনের মামলা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক সমালোচনার একটি অংশ। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, মানহানি এবং আইনসম্মত সমালোচনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখা রয়েছে। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে একজন ব্যক্তির সম্মান ও খ্যাতির অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতারা জনজীবনে প্রায়ই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার মুখে পড়েন। তাই সব ধরনের সমালোচনাকে মানহানিকর হিসেবে দেখা সম্ভব নয়। যে পাঁচটি পোস্ট সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই একমাত্র ‘আপত্তিকর’ বলে বিবেচিত হয়েছে। বাকি বিষয়বস্তুগুলোকে আদালত রাজনৈতিক সমালোচনার আওতায় ফেলেছে।

দীর্ঘ শুনানির পর আদালত এই রায় প্রদান করেছে। রাঘব চাড্ডার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এআই-সৃষ্ট বিকৃত কন্টেন্ট ও ভিডিও তাঁর পরিচয়কে কলঙ্কিত করছে। তবে হাইকোর্ট তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাপক নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। মূলত রাজনৈতিক সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মধ্যে সীমারেখা টেনে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, জননেতাদের নিয়ে সাধারণ ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা মত প্রকাশের স্বাধীনতারই অংশ। এই রায়ের ফলে রাঘব চাড্ডা সাময়িক স্বস্তি পেলেও, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অনলাইন ট্রোলিং ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।