বিজেপিকে ‘চোর’ বলে কটাক্ষ! অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর কেন্দ্রে কেন হারল তৃণমূল?

অভিনেতা ও বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিধানসভা কেন্দ্র চণ্ডীপুরে সমবায় ভোটে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এই কেন্দ্রে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা সবকটি আসনে জয়লাভ করে তৃণমূলকে পরাজিত করেছে। জয়ের পর বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী ও কর্মীরা গেরুয়া আবির উড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং এলাকায় বিজয় মিছিল করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ভগবানপুর ১ ব্লকের গুড়গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়ভেড়া সমবায় সমিতিতে। দীর্ঘ সাত বছর পর এই সমবায় সমিতিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৯টি আসনে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। শুক্রবার সকাল থেকে ভোট শুরু হয় এবং বিকেলে গণনা শেষে দেখা যায়, বিজেপি সমর্থিত ৯ জন প্রার্থীই জয়ী হয়েছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূলের দাবি
সমবায় সমিতির এই জয়কে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন। জয়ী প্রার্থী দীপক কুমার মান্না বলেন, “চোরের রাজত্বের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে। মানুষের কাছে এই বার্তা দিতে চাই, এমন একজনকে সরকারে আনুন যে সঠিক পথে চলতে পারে।”
চণ্ডীপুরের বিজেপি নেতা সূর্যকান্ত বার্গ বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, খুন ও ধর্ষণের কারণে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তার প্রমাণ একের পর এক সমবায় সমিতিতে তাদের পরাজয়। আগামী ২৬-এর নির্বাচনে চণ্ডীপুর বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তারা বলেন, “সমবায় নির্বাচনে কোনো দলের প্রতীক থাকে না, তাই এই জয় নিয়ে বিজেপি অহেতুক রাজনীতি করছে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি চণ্ডীপুরের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এবং অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব এলাকায় পদযাত্রা ও সভা করেছিলেন। কিন্তু এর পরেও এই পরাজয় রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি করেছে।