পুণে শহরের ঐতিহাসিক শনিয়ারওয়াদা কেল্লায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তির নমাজ পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্যসভা সাংসদ মেধা কুলকর্ণীর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা দুর্গ প্রাঙ্গণে গোমূত্র ও গোবর ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি পালন করেন।
১৭৩২ সালে নির্মিত এই দুর্গ একসময় ছিল মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশওয়াদের রাজধানী। সেই ঐতিহাসিক স্থানে নমাজের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা।
বিজেপি-র তীব্র প্রতিক্রিয়া
শনিবার ভিডিওটি হাতে পাওয়ার পর মেধা কুলকর্ণী এক্স পোস্টে তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি লেখেন, “এটা প্রত্যেক পুণেকরের কাছে চিন্তার ও রাগের বিষয়। প্রশাসন কী করছে? আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির মর্যাদা কোথায় হারাচ্ছে?”
মেধা জানান, প্রত্নতত্ত্ব দফতর ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের দুর্গ প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে তাঁর আশঙ্কা: “আমরা দেখেছি, অনেক সময় যেখানে নমাজ পড়া হয়, পরে তা ধর্মীয় স্থানে পরিণত হয়। সেই আশঙ্কা থেকেই আমাদের প্রতিবাদ।” তিনি আরও বলেন, “শনিয়ারওয়াদা আমাদের বিজয়ের প্রতীক… কেউ এখানে এসে নমাজ পড়লে, আমরা তা মেনে নেব না।”
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে বিজেপির পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, “এই কেল্লা আমাদের ইতিহাসের প্রতীক। কেউ যদি সেখানে নমাজ পড়ে, তাহলে কি হিন্দুরা হাজি আলিতে গিয়ে হনুমান চালিশা পড়তে পারবে? সেটাও তো অন্যের ভাবাবেগে আঘাত করবে। প্রার্থনা নির্দিষ্ট স্থানে হওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক তরজা ও উত্তেজনা
এদিকে, বিতর্ক চরম আকার নেয় যখন একদল প্রতিবাদকারী কাছের হজরত খজা সৈয়দ দরগা অপসারণের দাবি তোলে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দু’ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাজনৈতিক তরজা শুরু হতেই এনসিপি (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী)-র মুখপাত্র রূপালি ঠোম্বারে পাতিল মেধা কুলকর্ণীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনে অবিলম্বে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তিনি বলেন, “শনিয়ারওয়াদা সব পুণেকরের, কোনও এক ধর্মের নয়।”
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি আবু আসিম আজমি বিজেপির শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির তীব্র নিন্দা করে বলেন, “যারা একসময় ব্রিটিশদের পাশে ছিল, আজ তারাই ক্ষমতায় বসে মুসলিমদের অপমান করছে।”