বিজয়কে দেখতে জনসমুদ্র! পদপিষ্ট হয়ে ৪০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, ‘থালাপতি’র বাড়িতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা! (মৃত্যুসংখ্যা ও সংবাদের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নিরাপত্তা দিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি)

তামিলনাড়ুর কারুরে অভিনেতা তথা রাজনীতিক ‘থালাপতি’ বিজয়ের জনসভা ঘিরে শুরু হয়েছে মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল। জনবিস্ফোরণ ও চরম অব্যবস্থার জেরে পদপিষ্ট হয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ রুখতে অভিনেতা তথা তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজগম’ (TVK)-এর নেতাদের বাড়িতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাড়ি এখন দুর্গে পরিণত
কারুরের গণমৃত্যুর পর থেকেই চেন্নাইয়ে বিজয়ের বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়িটি কার্যতই দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষের ক্ষোভ যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে, এই আশঙ্কাতেই বিজয়ের দল TVK-এর জেলা সম্পাদকদেরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
অব্যবস্থা চরমে: ৭ ঘণ্টা দেরিতে বিজয়, ছিল না জল-খাবারের ব্যবস্থা
আগামী বছর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে DMK-কে উৎখাতের ডাক দিয়ে বিজয় এই জনসভার আয়োজন করেন। পুলিশের তরফে মাত্র ১০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমোদন দেওয়া হলেও, সেখানে ভিড় করে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত হয় সভা শুরুর আগেই। সকাল ১১টায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বিজয় সেখানে পৌঁছন সন্ধ্যায়, প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে! তীব্র গরম ও দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, জল, বা ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে অনেকেই সভাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যান।
ভিড়ের দিকে বোতল, পদদলিত হয়ে মৃত্যু
পুলিশ সূত্রে খবর, সন্ধ্যা ৭টার পর বিজয় জনসভাস্থলে ঢুকলে জনবিস্ফোরণ ঘটে। সকলেই তাঁকে এক ঝলক দেখতে, তাঁকে ছুঁয়ে দেখতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। এই ধাক্কাধাক্কিতে অনেকেই মাটিতে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হতে শুরু করেন।
যখন চারিদিকে হাহাকার, সেই পরিস্থিতিতেও নাকি বেশ কিছু ক্ষণ বক্তৃতা চালিয়ে যান বিজয়। এরপর যখন তাঁর টনক নড়ে, তিনি বাসের উপর থেকে ভিড়ের দিকে জলের বোতল ছুড়ে দেন। এতে ভিড়ের মধ্যে আরও হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অ্যাম্বুল্যান্সও ভিড়ের মধ্যে ঢুকতে পারেনি।
হাহাকারের মাঝেই প্রাইভেট বিমানে বাড়ি ফিরলেন নেতা
ঘটনার পর বিজয় গভীর মর্মাহত বলে জানিয়েছেন এবং নিহত ৪০ জনের পরিবারকে মাথাপিছু ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ হলো— চারিদিকে যখন হাহাকার চলছে, সেই অবস্থায় সভাস্থল থেকে বেরিয়ে যান অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি ত্রিচী বিমানবন্দর থেকে প্রাইভেট বিমানে চেপে সরাসরি নিজের বাড়ি চলে যান। চরম অব্যবস্থা এবং জনসভায় মৃত্যুমিছিলের মুহূর্তে বিজয়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।