‘বিচার অধরা কেন?’ কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর চলা নৃশংস অত্যাচারের জট পাকাতেই তদন্তের গতি বাড়াল এসআইএ

জম্মু-কাশ্মীরে নব্বইয়ের দশকে সংঘটিত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিশানা করে চালানো একাধিক কুখ্যাত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে ফের নতুন করে গতি আনল জম্মু ও কাশ্মীর স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। দীর্ঘ ২৬ বছর পর ১৯৯৮ সালের অত্যন্ত বিতর্কিত ও মর্মান্তিক ওয়ানধামা গণহত্যার মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় খুলে নতুন করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে উপত্যকার ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে পরিচিত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিশিষ্ট নেতা টিকা লাল টাপলু এবং প্রবীণ বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জু হত্যাকাণ্ডের তদন্তের গতিও বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিন গভীর রাতে গান্দারবল জেলার প্রত্যন্ত ওয়ানধামা গ্রামে একদল সশস্ত্র জঙ্গি অতর্কিত অনুপ্রবেশ করে। কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও পৈশাচিক তাণ্ডব চালিয়ে ৯ জন মহিলা ও ৪ জন নিষ্পাপ শিশুসহ মোট ২৩ জন নিরীহ মানুষকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের কোনো সন্তোষজনক সুরাহা না হয়ে মামলাটি ঝুলে ছিল। সম্প্রতি উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে জোরদার তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত জঙ্গি এবং তাদের তৎকালীন স্থানীয় মদতদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ ব্যাপকহারে শুরু করেছে এসআইএ।

এর আগে চলতি বছরের জুন ও অগস্ট মাসে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সারলা ভাট হত্যা মামলায় একটি দীর্ঘ ৭৩৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে পেশ করেছিল এসআইএ, যেখানে কারাবন্দি জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিককে এই নাশকতার মূল চক্রান্তকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর পাশাপাশি, খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যিক সারবানন্দ কৌল প্রেমী এবং তাঁর পুত্র বীরেন্দ্র কৌল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনেও কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক স্থানে এসআইএ বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার দশকের পর দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলির ফাইল এক এক করে নতুন করে খোলা হচ্ছে।

তদন্তের এই নতুন তালিকায় ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নির্মমভাবে খুন হওয়া সিনিয়র আইনজীবী তথা জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির তৎকালীন সহ-সভাপতি টিকা লাল টাপলু হত্যা মামলাটিকে অত্যন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উপত্যকায় উগ্রপন্থী জঙ্গিবাদের প্রারম্ভিক পর্বে বিশিষ্ট কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রথম সারির নিশানামূলক হত্যাকাণ্ডগুলির মধ্যে এটি ছিল অন্যতম এক মাইলফলক। এর পাশাপাশি, জেকেএলএফ জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী সাহসী বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জু হত্যা মামলাতেও তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের ব্যস্ত হরি সিং স্ট্রিটে দিনের আলোয় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। দশকের পর দশক ধরে আইনি জট ও রাজনৈতিক উদাসীনতায় আটকে থাকা এই সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুখ্যাত অপরাধী এবং তাদের আড়ালে থাকা সাহায্যকারীদের শেষ পর্যন্ত আইনের কঠোর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন এসআইএ-র মূল লক্ষ্য।